প্রকাশিত:
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার সন্ধ্যায় আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণ থেকে ইমাম শাইখ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে ইসরায়েলি পুলিশের তরফ থেকে আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা 'ওয়াফা' (WAFA) স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শায়খ মোহাম্মদ আল-আব্বাসি যখন মসজিদের আঙিনায় অবস্থান করছিলেন, তখন ইসরায়েলি পুলিশের একটি দল সেখানে প্রবেশ করে তাকে আটক করে। আটকের সময় কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে তাও তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
অবশ্য আটক করার কয়েক ঘণ্টা আগে শায়খ আল-আব্বাসিকে এক সপ্তাহের জন্য মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজন হলে এ আদেশ নবায়ন করা হতে পারে বলেও জানানো হয়।
গ্রেফতার হওয়ার আগে ইমাম জানিয়েছিলেন, তাকে এই নিষেধাজ্ঞার কোনো যৌক্তিক কারণ জানানো হয়নি। দীর্ঘ এক বছর একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার চিকিৎসা শেষে সম্প্রতি তিনি কাজে ফিরেছিলেন। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই এমন নিষেধাজ্ঞা ও গ্রেফতার তাকে মানসিকভাবে ব্যথিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পবিত্র মাস মাহে রমজান শুরুর ঠিক আগে ইসরায়েলের এমন আচরণে মুসলিমদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এই গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে মঙ্গলবার একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়:
"এটি আল-আকসা মসজিদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নগ্ন আঘাত। রমজানকে সামনে রেখে মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতেই এই উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।"
সাম্প্রতিক সময়ে আল-আকসা মসজিদকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, আসন্ন রমজানে লাখো মুসল্লির সমাগম ঠেকাতে ইসরায়েল আগেভাগেই ইমাম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।অন্যদিকে, কঠোর পুলিশি পাহারায় ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশের হার বেড়েছে, যা স্থানীয় মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে।
এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস জানায়, আল-আব্বাসিকে মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া হয়েছে। দাবি, এটি আল-আকসার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত।
রমজানকে সামনে রেখে মসজিদে লজিস্টিক প্রস্তুতিতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি। রমজানের আগ মুহূর্তে আল-আকসার ইমামকে গ্রেফতার কেবল একটি আইনি ঘটনা নয়, বরং এটি জেরুজালেমের ভঙ্গুর স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।