প্রকাশিত:
গতকাল

মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় 'জেফরি এপস্টিন কেলেঙ্কারি' নিয়ে দীর্ঘ নীরবতা ভাঙতে যাচ্ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) কংগ্রেসের বিশেষ তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ক্লিনটন দম্পতি এপস্টিনের সাথে তাদের সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি জানিয়েছেন।
কুখ্যাত অপরাধী জেফরি এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমান 'ললিটা এক্সপ্রেস'-এ বিল ক্লিনটনের ২৬ বার ভ্রমণের রেকর্ড নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নানা গুঞ্জন চলছে। এছাড়া এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপ 'লিটল সেন্ট জেমস'-এ ক্লিনটনদের উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সাক্ষীর দাবি মার্কিন রাজনীতিতে বারবার ঝড় তুলেছে। ক্লিনটন দম্পতি এতদিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও এবারই প্রথম তারা কোনো তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।
কংগ্রেসের 'এপস্টিন টাস্ক ফোর্স' মূলত তিনটি প্রধান প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে:
১. কেন এবং কী উদ্দেশ্যে বিল ক্লিনটন এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমানে একাধিকবার আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করেছিলেন?
২. এপস্টিন বা তার কোনো সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে কোনো গোপন তহবিল এসেছিল কি না।
৩. এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সময় ক্লিনটন দম্পতি সেখানে উপস্থিত ছিলেন কি না।
রিপাবলিকানদের নেতৃত্বাধীন হাউস ওভারসাইট কমিটি গত মাসের শেষ দিকে ক্লিনটন দম্পতিকে অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করার পদক্ষেপ অনুমোদন করেছিল। এ সিদ্ধান্তে বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্যও সমর্থন দেন।
সোমবার সন্ধ্যায় বিল ক্লিনটনের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ অ্যাঞ্জেল উরেনা 'এক্স'-এ এক পোস্টে নিশ্চিত করেন, ক্লিনটন দম্পতি প্যানেলের সামনে হাজির হবেন। হাউস ওভারসাইট কমিটিকে উদ্দেশ করে উরেনা লেখেন, 'তারা সদিচ্ছা নিয়েই আলোচনা করেছেন। কিন্তু আপনারা তা করেননি।'
ক্লিনটন দম্পতি জানিয়েছেন, তারা এর আগেই কমিটিকে হলফনামা দিয়েছেন এবং এপস্টিন সম্পর্কে তাদের কাছে থাকা 'সীমিত তথ্য' ইতোমধ্যে সরবরাহ করেছেন। তারা আইনি সমনগুলোকে 'রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিব্রত করার কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়' বলে উড়িয়ে দেন। তাদের দাবি, ট্রাম্পের নির্দেশেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইনজীবীদের মতে, কোনো প্রকার আইনি বাধ্যবাধকতা বা 'সমন' ছাড়াই তাদের এই স্বেচ্ছায় সাক্ষ্য দেওয়ার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত কৌশলগত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬-এর নির্বাচনী বছরের শুরুতেই এই কলঙ্ক থেকে নিজেদের মুক্ত করতে ক্লিনটনরা এই সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। হিলারি ক্লিনটনের ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছে, "মিথ্যা গুজব বন্ধ করতেই তারা সত্য প্রকাশ করতে চান।"
এপস্টিনের নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীরা কখনোই বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে কোনো অন্যায়ের অভিযোগ করেননি। বিল ক্লিনটনও এপস্টিনের যৌন অপরাধ সম্পর্কে জানার কথা অস্বীকার করে আসছেন। এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমানের নথিতে দেখা যায়, ২০০২ ও ২০০৩ সালে ক্লিনটন চারটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাতায়াত করেছিলেন।
একটি ছবিতে সাবেক প্রেসিডেন্টকে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে তাকে হট টাবের মতো দেখতে একটি স্থানে মাথার পেছনে হাত দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।
"ক্লিনটনদের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সাহসী। যদি তারা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন, তবে দীর্ঘদিনের কলঙ্ক মুছে যাবে। আর যদি নতুন কোনো তথ্য বেরিয়ে আসে, তবে তা মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসে ভূমিকম্প সৃষ্টি করবে।"
আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে ওয়াশিংটনে এই রুদ্ধদ্বার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। যদি ক্লিনটন দম্পতি সন্তোষজনক প্রমাণ দিতে পারেন, তবে এটি হবে তাদের বড় রাজনৈতিক বিজয়। অন্যথায়, এটি ডেমোক্র্যাট শিবিরের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।