প্রকাশিত:
১২ জানুয়ারী, ২০২৬

সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে এনেছে মার্কিন বাহিনী। এরপর থেকে দেশটির তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনতে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছে ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তারা।
বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনাগার কমপ্লেক্সের মালিক মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (RIL) রাশিয়ার বিকল্প হিসেবে এখন ভেনেজুয়েলার বাজারের দিকে ঝুঁকছে। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর আটকের পর দেশটির তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ এখন ওয়াশিংটনের হাতে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রিলায়েন্সের প্রতিনিধিরা ভেনেজুয়েলার তেল আমদানির বিশেষ অনুমতির জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র ও ট্রেজারি বিভাগের সাথে নিবিড় আলোচনা শুরু করেছেন।
২০২৫ সালের প্রথম চার মাসে রিলায়েন্স ভেনেজুয়েলা থেকে দৈনিক প্রায় ৬৩ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করেছিল। তবে মার্কিন শুল্কের হুমকিতে মে ২০২৫-এর পর থেকে এই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এখন সেই পথ পুনরায় সচল করতে ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছে আম্বানির এই সংস্থা।
মুকেশ আম্বানি বিশ্বের প্রথম সারির জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। গুজরাট রাজ্যের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রির যে তেল শোধনাগারটি আছে, সেটি পৃথিবীর বৃহত্তম তেল শোধনাগার। এছাড়াও আরও একটি তেল শোধানগার আছে গুজরাটে। এ দু’টি শোধনাগার সমন্বিতভাবে প্রতিদিন ১৪ লাখ ব্যারেল (এক ব্যারেল=১৫৯ লিটার) অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে সক্ষম।
ভেনেজুয়েলা তেল সম্পদে খুবই সমৃদ্ধ। এ মূহূর্তে বিশ্বে যত ভূগর্ভস্থ তেল রয়েছে তার এক পঞ্চমাংশই আছে ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে।
মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অপহরণের পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন— ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের তদারকি এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র করবে। তিনি আরও বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রয় ব্যবস্থাপনার জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। কয়েক দিন আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সবুজ সংকেত পেলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রয়ে যৌথভাবে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ।
মুকেশ আম্বানির এই সিদ্ধান্ত কেবল ব্যবসায়িক নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত গভীর ভূ-রাজনৈতিক চাল। রাশিয়ার সঙ্গ ত্যাগ করে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত ভেনেজুয়েলার তেলের দিকে ঝুঁকে পড়া বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভারতের নতুন অবস্থানেরই প্রতিফলন।