প্রকাশিত:
গতকাল

মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে আজ সংসদে ‘সংবিধান (সংশোধন) বিল ২০২৬’ উত্থাপন করেছেন দেশটির আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার মন্ত্রী আজালিনা ওসমান সাইদ। এই বিলটি পাস হলে মালয়েশিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত হবে।
প্রস্তাবিত এই সংশোধনীতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের ব্যাপারে বেশ কিছু কঠোর ও স্পষ্ট ধারা যুক্ত করা হয়েছে:
একজন ব্যক্তি তাঁর জীবনে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
এই ১০ বছর টানা হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কোনো ব্যক্তি যদি বিরতি দিয়েও একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী হন, তবে তাঁর মোট সময়কাল ১০ বছর পূর্ণ হলেই তিনি আর ওই পদের জন্য যোগ্য থাকবেন না।
বিলটি ‘রেট্রোস্পেক্টিভ’ বা অতীত কার্যকারিতা সম্পন্ন। অর্থাৎ, যারা আগে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তাঁদের আগের মেয়াদের সময়কালও এই ১০ বছরের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এই সংস্কারকে তাঁর ‘মাদানি’ (MADANI) সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে:
দীর্ঘ সময় (যেমন মাহাথির মোহাম্মদের ২৪ বছর) ক্ষমতায় থাকার ফলে যে ক্ষমতার কেন্দ্রীভূতকরণ ও দুর্নীতির ঝুঁকি তৈরি হয়, তা রোধ করাই এর মূল লক্ষ্য।নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়া রাজনৈতিক স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।এই বিলের পাশাপাশি একটি ওমবাডসম্যান অফিস এবং তথ্য অধিকার আইন চালুর ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন।
আনোয়ার জানিয়েছেন, এই আইন সবার আগে তাঁর নিজের ওপর প্রযোজ্য হবে। বর্তমানে তাঁর মেয়াদের প্রায় ৩ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে, ফলে আইনটি পাস হলে তিনি ভবিষ্যতে আরও ৭ বছর এই পদে থাকতে পারবেন।
যারা ইতিমধ্যে ১০ বছর বা তার বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাটিয়েছেন (যেমন মাহাথির মোহাম্মদ), এই আইন কার্যকর হলে তাঁরা আর কখনোই প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ল এই আইনের মাধ্যমে।
এই প্রস্তাব কার্যকর করতে হলে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের মোট ২২২ আসনের মধ্যে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ১৪৮ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন হবে।যদিও আনোয়ার ইব্রাহিমের বর্তমান সরকারের কাছে এই বিশাল সমর্থন রয়েছে, তবুও বিরোধীরা এই বিলের বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, তা দেখার বিষয়।