প্রকাশিত:
২ ঘন্টা আগে

থাইল্যান্ডে নির্মাণাধীন স্থাপনায় ক্রেন ভেঙে পড়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যাচ্ছে না। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি, ২০২৬) ব্যাংককের পার্শ্ববর্তী সামুত প্রাকান প্রদেশে একটি বহুতল আবাসন প্রকল্পের কাজ চলাকালীন টাওয়ার ক্রেন ধসে দুই জন নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও অন্তত চার জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী কর্মীদের দেওয়া তথ্যমতে, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে শ্রমিকরা যখন ক্রেন ব্যবহার করে ভারী স্টিলের বিম ওপরে তুলছিলেন, তখন হঠাৎ করে ক্রেনের মূল কাঠামোটি বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে। ক্রেনটির ওপরের অংশটি সরাসরি নিচে কাজ করতে থাকা শ্রমিকদের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে একজন থাই নাগরিক এবং অন্যজন পার্শ্ববর্তী দেশের অভিবাসী শ্রমিক বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
খবর পেয়ে দ্রুত থাই দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ডগ স্কোয়াড ও ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ব্যাংককের গভর্নর এক জরুরি বার্তায় জানিয়েছেন, নির্মাণ কাজে নিরাপত্তা বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে। তিনি আরও বলেন, "শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো প্রকল্প চলতে দেওয়া হবে না।"
থাইল্যান্ডে নির্মাণকাজে জড়িত একের পর এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা। এর আগের দিন বুধবার উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশে একটি উড়াল দ্রুতগতির রেল প্রকল্পে ব্যবহৃত ক্রেন ভেঙে পড়ায় একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়।
ওই ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত হন এবং ট্রেনে থাকা ১৯৫ জন যাত্রীর মধ্যে ৬৬ জন আহত হন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুইটি ঘটনাই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেছে। তাদের দাবি, অনেক কোম্পানি খরচ বাঁচাতে পুরনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয় না। শ্রমিক নেতাদের মতে, সরকারি তদারকির অভাবেই বারবার এই ধরণের ‘হত্যাকাণ্ড’ ঘটছে।