প্রকাশিত:
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

একটা সময় 'মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন' স্লোগানের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছিল ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন অবস্থান। কিন্তু সাম্প্রতিক সমীক্ষা ও জনমত জরিপ বলছে, সেই ট্রাম্প কার্ডই এখন তার জনপ্রিয়তায় বড় ফাটল ধরাচ্ছে।
রয়টার্স/ইপসোসের নতুন এক জনমত জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। জরিপটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্পের শক্তিশালী সমর্থক বলে পরিচিত মার্কিন পুরুষদের মধ্যেও তিনি সমর্থন হারাচ্ছেন।
ট্রাম্পের অভিবাসননীতিতে জনসমর্থন কমার পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব কাজ করছে।যেমন:
সীমান্ত থেকে শিশুদের বিচ্ছিন্ন করা বা গণ-ডিপোর্টেশনের মতো কঠোর পদক্ষেপগুলো সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষ মনে করছেন, ঢালাও অভিবাসী বহিষ্কার মার্কিন শ্রমবাজারে বড় শূন্যতা তৈরি করবে, যা নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ভোটারদের একটি বড় অংশ এখন চরমপন্থার চেয়ে স্থিতিশীল এবং ভারসাম্যপূর্ণ অভিবাসন সমাধান খুঁজছে।
গত সোমবার শেষ হওয়া চার দিনব্যাপী এই জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ৩৮ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের অভিবাসননীতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের শেষ দিকের তুলনায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের অভিবাসননীতির প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ে পুরুষ ভোটাররা বড় ভূমিকা রেখেছিলেন এবং ২০২৫ সালজুড়ে তাঁদের মধ্যে ট্রাম্পের অভিবাসননীতির জনপ্রিয়তা ৫০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল।
নিরপেক্ষ বা 'সুইং ভোটাররা', যারা যেকোনো নির্বাচনের জয়-পরাজয় নির্ধারণ করেন, তারা ট্রাম্পের অতিরিক্ত কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসছেন। জরিপ অনুযায়ী, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং লাতিন আমেরিকান ভোটারদের একটি অংশ ট্রাম্পের এই অনমনীয় নীতিকে আর ইতিবাচকভাবে দেখছেন না।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের অভিবাসননীতির প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ে পুরুষ ভোটাররা বড় ভূমিকা রেখেছিলেন এবং ২০২৫ সালজুড়ে তাঁদের মধ্যে ট্রাম্পের অভিবাসননীতির জনপ্রিয়তা ৫০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল।
২০২৬-এর আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই জনপ্রিয়তা হ্রাস ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবিরের জন্য বড় চিন্তার কারণ। অভিবাসন ইস্যু যেখানে একসময় তাকে নিরঙ্কুশ সুবিধা দিত, এখন সেখানে তাকে রক্ষণাত্মক অবস্থানে যেতে হচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসননীতি এখন কেবল রাজনৈতিক কৌশলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি মানবিক ও সামাজিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভোটারদের এই মুখ ফিরিয়ে নেওয়া আগামী নির্বাচনে বড় কোনো উলটপালট ঘটাবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।