প্রকাশিত:
গতকাল

গত শুক্রবার ছয়-তিন ভোটে দেওয়া রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত জানায়, ১৯৭৭ সালের একটি আইনের আওতায় ট্রাম্প যেভাবে বিভিন্ন দেশের ওপর আকস্মিক শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সে ক্ষমতা তার নেই। এ রায়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সোমবার জানায়, রায়ের প্রভাব নিয়ে তারা ‘সমগ্রিক মূল্যায়ন’ করছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।
চীন মূলত তিনটি প্রধান পয়েন্টে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে:
ট্রাম্পের ঘোষিত ১৫ শতাংশ শুল্ককে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করে বেইজিং জানিয়েছে, এর ফলে কেবল চীনেরই ক্ষতি হবে না, বরং মার্কিন সাধারণ মানুষও মুদ্রাস্ফীতির কবলে পড়বে।
চীন আহ্বান জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রকে কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। বেইজিংয়ের মতে, "চীন ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হওয়া উচিত।"
তাইওয়ান ইস্যু এবং দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন সামরিক তৎপরতা নিয়ে চীন সতর্ক করে বলেছে, এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ানো মানে বিশ্বশান্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলা।
শান্তির আহ্বান জানালেও চীন তার সুর নরম করেনি। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে:
যদি যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক নীতি থেকে সরে না আসে, তবে চীনও মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক (Counter-tariffs) আরোপ করতে দ্বিধা করবে না। সেমিকন্ডাক্টর এবং বিরল খনিজ পদার্থ (Rare Earth Elements) রপ্তানির ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে বেইজিং, যা মার্কিন প্রযুক্তি শিল্পের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই ‘আহ্বান’ আসলে একটি কূটনৈতিক চাল। বেইজিং একদিকে নিজেকে বিশ্ব বাণিজ্যের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। বর্তমান এই সংঘাত যদি প্রশমিত না হয়, তবে ২০২৬ সাল বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি চরম মন্দার বছর হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের রায় ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দায়িত্বে ফেরার পর থেকে যে বিচারিক সংস্থা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তার পক্ষে ছিল, সেই সংস্থাই এবার তার স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক নীতিকে বাতিল করেছে।
এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায়ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, তারা সুপ্রিম কোর্টের রায় ও ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণাগুলো পর্যালোচনা করছে।