প্রকাশিত:
১৩ জানুয়ারী, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত এবং দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড তাঁর নির্ধারিত মেয়াদের এক বছর আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগামী ৩১ মার্চ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ক্ষমতার বাইরে ছিলেন তখন ট্রাম্পকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন রাড।
পরে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার ওই রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন ‘আমি আপনাকে পছন্দ করি না’।
কেভিন রাডের এই সিদ্ধান্তকে আকস্মিক মনে হলেও প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ জানিয়েছেন, এটি রাডের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কেভিন রাড পুনরায় নিউ ইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘এশিয়া সোসাইটি’-এর গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন। এর আগে ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি এই সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদত্যাগের পেছনে বর্তমান মার্কিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর পুরনো তিক্ততা এবং কূটনৈতিক চাপ এই সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, এক বছর আগে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত রাডের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কেভিন রাডের কর্মসংস্কৃতি এমন যে আমি আগে কখনও কারো মধ্যে দেখিনি। তিনি অবিরাম পরিশ্রম করেছেন। তিনি এমন একটি পদে যাচ্ছেন যা তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
কেভিন রাডের মেয়াদে অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্জন রয়েছে।যেমন:
১. অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর জন্য পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন নিশ্চিত করতে ট্রাম্প ও বাইডেন প্রশাসনের সাথে সফলভাবে সমন্বয় করেছেন।
২. উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতার মুক্তিতে পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেছেন।
৩. মাইক্রোসফট ও অ্যামাজন থেকে অস্ট্রেলিয়ায় রেকর্ড ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছেন।
কেভিন রাড ওয়াশিংটন ত্যাগ করে এপ্রিলে ‘এশিয়া সোসাইটি’তে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি মূলত মার্কিন-চীন সম্পর্ক এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি নিয়ে কাজ করবেন। এদিকে অস্ট্রেলিয়া সরকার এখনো কেভিন রাডের উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করেনি, তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অভিজ্ঞ কোনো কূটনীতিকের নাম আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক প্রেসিডেন্ট’ এবং ‘পশ্চিমাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতক’ হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন রাড। যদিও ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে নির্বাচনে ট্রাম্প জয়লাভের পর রাড অনলাইনে মন্তব্যগুলো মুছে ফেলেন।