প্রকাশিত:
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
.jpg&w=3840&q=75)
ইসরায়েলি বা মার্কিন হামলা কিংবা শীর্ষ নেতাদের গুপ্তহত্যার আশঙ্কার মধ্যেই এক ‘মাস্টারপ্ল্যান’ হাতে নিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, খামেনির অবর্তমানে বা যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
খামেনির এই পরিকল্পনার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো 'ব্যক্তি-কেন্দ্রিক' নির্ভরতা কমিয়ে 'প্রতিষ্ঠান-কেন্দ্রিক' ক্ষমতা কাঠামো শক্তিশালী করা। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, খামেনি এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন যেখানে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি ‘বিশেষ কাউন্সিল’ অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ (Assembly of Experts) ইতিমধেই তিনজনের একটি অতি-গোপনীয় সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে রেখেছে। খামেনির অনুপস্থিতিতে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দ্রুততম সময়ে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতাকে সামনে আনা হবে।
মাস্টারপ্ল্যানে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। নেতৃত্বের পরিবর্তনের সময় যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ বা অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমনে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হবে।
সর্বোচ্চ নেতার কিছু বিশেষ ক্ষমতা কাউন্সিল অব গার্ডিয়ানস এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রধান পদটি শূন্য থাকলেও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো স্থবিরতা না আসে।
৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বেশ কিছুকাল ধরে বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান উত্তেজনার মাঝে ইরান কোনোভাবেই নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হতে দিতে চায় না। বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ এবং ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির আকস্মিক মৃত্যুর পর খামেনি এই মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করার তাগিদ অনুভব করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ এবং হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহর মতো মিত্র নেতাদের ওপর সফল গুপ্তহত্যার ঘটনা ইরানকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খামেনি মনে করছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ চেইন অব কমান্ড বা নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এই শূন্যতা পূরণে এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে আলী লারিজানি বা জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্য ও উচ্চপদস্থ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে গত রবিবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বার্তাসংস্থা এএফপি বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিলেও, দীর্ঘ বা স্বল্পমেয়াদি সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী, তা স্পষ্ট করেননি। ইতোমধ্যে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ ও বহুসংখ্যক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছেন। ফলে পরিস্থিতি যেকোনও সময় বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির এই মাস্টারপ্ল্যান আসলে পশ্চিমাবিরোধী ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ (Axis of Resistance)-কে একটি বার্তা। ইরান এটি পরিষ্কার করতে চায় যে, ড্রোন হামলা বা গুপ্তহত্যার মাধ্যমে তেহরানের শাসনব্যবস্থাকে ধসিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।