প্রকাশিত:
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
.jpg&w=3840&q=75)
পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা ও কড়া নজরদারি উপেক্ষা করে রাশিয়ার সঙ্গে একটি বড় ধরনের গোপন ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে ইরান। ফাঁস হওয়া রুশ নথি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে মস্কোতে এই চুক্তি সই হয়। প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৫৯০ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের এই চুক্তির আওতায় ইরান রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও হাজার হাজার মিসাইল সংগ্রহ করতে যাচ্ছে।
২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য সংঘাতের সময় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যে ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল, তা পুষিয়ে নিতেই তেহরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে। চুক্তির প্রধান শর্তগুলো হলো:
সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে গত ডিসেম্বর মাসেই রাশিয়ার সঙ্গে ৫৮৯ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সেরে ফেলে ইরান। চুক্তির ভিত্তিতে, আগামী ৩ বছরের মধ্যে ইরানকে ৫০০টি ‘ম্যান পোর্টেবল ভার্বা লঞ্চ ইউনিট’ ও ২৫০০ টি ‘৯এম৩৩৬’ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে রাশিয়া।
‘ভারবা’ হলো রাশিয়ার অন্যতম আধুনিক কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, যা ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল এবং নিচু দিয়ে উড়া বিমানকে নিখুঁতভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম। এতে রয়েছে মাল্টি-স্পেকট্রাল অপটিক্যাল সিকার, যা শত্রুর জ্যামিং সিস্টেমকে ফাঁকি দিতে পারে।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে তিনটি ধাপে এই অস্ত্রগুলো তেহরানে পৌঁছাবে। তবে কিছু গোয়েন্দা তথ্যে দাবি করা হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে রাশিয়ার কিছু মজুদ আগেই ইরানে পাঠানো হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চুক্তিটি মূলত একটি 'গিভ অ্যান্ড টেক' বা বিনিময় সম্পর্কের অংশ। ইরান গত কয়েক বছর ধরে রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন ও ব্যালেস্টিক মিসাইল সরবরাহ করে আসছে। এখন সেই ঋণের প্রতিদান হিসেবে রাশিয়া ইরানকে তাদের সবচেয়ে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করছে।
এই চুক্তির খবর জানাজানি হওয়ার পর ওয়াশিংটন ও তেল আবিবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসন সতর্ক করে বলেছে, ইরান ও রাশিয়ার এই ক্রমবর্ধমান সামরিক জোট মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। বিশেষ করে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য পারমাণবিক আলোচনার ঠিক আগেই এই খবরটি তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।
ইরান নিজেকে ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ হিসেবে গড়ে তোলার যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছে, রাশিয়ার এই মিসাইল চুক্তি তাকে আরও একধাপ এগিয়ে দিল। রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় ইরানের আকাশসীমা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দুর্ভেদ্য হয়ে ওঠার পথে।