প্রকাশিত:
১৩ জানুয়ারী, ২০২৬

বাঙালির প্রাণের উৎসব আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় টানা দ্বিতীয় বছরের মতো অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের প্রথা ভেঙে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া ৪৯তম আসরে বাংলাদেশের কোনো প্রকাশনা সংস্থা বা সরকারি প্যাভিলিয়ন থাকছে না। সোমবার (১২ জানুয়ারি) আয়োজক সংস্থা ‘পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড’-এর পক্ষ থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কলকাতা লিটারেচার ফেস্টিভালের কিউরেটর মালবিকা ব্যানার্জিসহ সাহিত্যজগতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৯৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক এ বইমেলায় টানা অংশগ্রহণ করেছিল বাংলাদেশ। তবে গত বছর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ অংশ নেয়নি। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও মেলায় বাংলাদেশের কোনো স্টল থাকছে না।
মেলার আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মূলত নিরাপত্তা শঙ্কা এবং ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ‘সবুজ সংকেত’ না মেলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের অনুপস্থিতি কলকাতার বইপ্রেমীদের জন্য বড় এক হতাশার বিষয় বলে মনে করছেন প্রকাশক ও পাঠকেরা। কারণ, কলকাতার বাজারে বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় বাংলা বই সহজলভ্য নয়। ফলে বইমেলায় বাংলাদেশি প্রকাশনার বইয়ের প্রতি পাঠকদের বিশেষ আগ্রহ থাকে।
বিশেষ করে হুমায়ূন আহমেদ, তসলিমা নাসরিন কিংবা বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় লেখকদের বইয়ের জন্য পাঠকরা সারাবছর অপেক্ষা করেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশি প্রকাশকদের জন্য এটি ছিল আয়ের বড় একটি উৎস। স্টল না থাকায় কলকাতার পাঠকরা এবারও নামী বাংলাদেশি প্রকাশনীগুলোর নতুন বই থেকে বঞ্চিত হবেন।
এবারের বইমেলার উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এ বছর মেলার ফোকাল কান্ট্রি আর্জেন্টিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন আর্জেন্টিনার বিশিষ্ট লেখক গুস্তাভো কুনসোব্রে। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউসিনো।
গিল্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৭ সালে কলকাতা বইমেলার সুবর্ণ জয়ন্তী (৫০তম আসর) অনুষ্ঠিত হবে। তারা আশাবাদী যে, আগামী বছর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং বাংলাদেশ পুনরায় মেলায় ফিরবে।
২২ জানুয়ারি সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কের বইমেলা প্রাঙ্গণে মেলা শুরু হবে। চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।