প্রকাশিত:
১৩ জানুয়ারী, ২০২৬

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটায় সেখানে অবস্থানরত নিজ দেশের নাগরিকদের অবিলম্বে দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১২ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং তেহরানে অবস্থিত মার্কিন ভার্চুয়াল দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, "এখনই ইরান ত্যাগ করুন।"
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন শাসকগোষ্ঠী পতনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দাবি অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইরান সরকার দেশজুড়ে মোবাইল ও ল্যান্ডলাইন ইন্টারনেট পরিষেবা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে ফেলেছে। মার্কিন নাগরিকদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। মার্কিন পাসপোর্ট বা আমেরিকার সাথে কোনো যোগসূত্র থাকাই আটকের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।
সোমবার ‘ইউএস ভার্চ্যুয়াল এম্বেসি তেহরান’ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এখনই ইরান ছাড়ুন।’ এতে নাগরিকদের নিজ নিজ ঝুঁকি মূল্যায়ন করে ভ্রমণপরিকল্পনার আহ্বান জানানো হয়।সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকেরা জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেপ্তার ও আটক হওয়ার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। এমনকি শুধু মার্কিন পাসপোর্ট বহন করাই আটকের কারণ হতে পারে। দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের ক্ষেত্রে কেবল ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করেই দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে।
যাঁরা এখনই ইরান ছাড়তে পারছেন না, তাঁদের জন্য পরামর্শে বলা হয়েছে—নিজ বাসভবনের ভেতরে বা অন্য কোনো নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নিতে এবং খাবার, পানি, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য মজুত রাখতে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, তাঁর প্রশাসন ‘কিছু অত্যন্ত কঠোর বিকল্প’ বিবেচনা করছে। সম্ভাব্য বিমান হামলাকে তিনি ‘কাছে থাকা বহু বিকল্পের একটি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর জবাবে ইরানের কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করলে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি এবং সেখানে থাকা জনবল ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’ পরিণত হবে।
এ ছাড়া তেহরানের দাবি, অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে বিদেশি মদদপুষ্ট অনুপ্রবেশকারীদের ভূমিকার প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। এর মধ্যে মোসাদের সদস্যদের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, এসব তৎপরতার উদ্দেশ্য ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের জন্য একটি অজুহাত তৈরি করা।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এক ঘোষণায় জানিয়েছেন যে, তার প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক এবং গোপন সাইবার অপারেশনের মতো ‘কঠোর বিকল্প’ নিয়ে ভাবছে। এছাড়া তিনি একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন যে:
"যেসব দেশ ইরানের সাথে ব্যবসা চালিয়ে যাবে, তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।"
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সক্ষমতা পরীক্ষা করতে চায়, তবে তেহরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘উসকানিমূলক’ আচরণের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরান এখন সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। মার্কিন নাগরিকদের এই জরুরি প্রস্থান নির্দেশ বড় ধরনের কোনো সামরিক পদক্ষেপ বা গৃহযুদ্ধের আশঙ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে।