প্রকাশিত:
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জর্জরিত ফ্রান্স এবং আলজেরিয়ার সম্পর্কের শীতলতা কাটতে শুরু করেছে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রগুলো পুনরায় সচল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং অবৈধ অভিবাসন রোধে দুই দেশ এখন একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী লরাঁ নুনেজের আলজিয়া সফরে গতকাল মঙ্গলবার ফ্রান্স ও আলজেরিয়া নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফ্রান্স এবং আলজেরিয়ার সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইতিহাসের অন্যতম খারাপ সময় পার করেছে। বিশেষ করে ঔপনিবেশিক ইতিহাস এবং ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা তাদের আবারও এক টেবিলে বসিয়েছে।
মালি, নাইজার ও বুরকিনা ফাসোয় ক্রমবর্ধমান জিহাদি তৎপরতা দমনে আলজেরিয়ার গোয়েন্দা তথ্য ফ্রান্সের জন্য অপরিহার্য। সাহেল অঞ্চল থেকে ফরাসি সেনা প্রত্যাহারের পর সেখানে যে নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে আলজেরিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুনরায় শুরু হওয়া এই নিরাপত্তা চুক্তিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।এগুলো হলো : গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়,সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযান ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ।
এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো উভয়পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা। এটি একটি উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনার অংশ যা নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ। যাতে পুনঃপ্রবেশ সম্পর্কিত সহযোগিতা উন্নত করা যায় সে জন্য তার দেশের সেবাদান সংস্থাগুলোকে ফরাসি কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য তিনি আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান। আলজেরিয়া কয়েক মাস ধরে ফ্রান্সে অনিয়মিতভাবে বসবাস করা তার দেশের নাগরিকদের ফেরত নেয়া থেকে বিরত রয়েছে।
নুনেজ নিশ্চিত করেছেন, পুনঃস্থাপিত সহযোগিতা ‘যত দ্রুত সম্ভব’ কার্যকর হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এবং আলজেরীয় সরকারের এই পদক্ষেপ কেবল সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। আলজেরিয়া চায় এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় তাদের নেতৃত্ব বজায় রাখতে, আর ফ্রান্স চায় উত্তর আফ্রিকায় তাদের ক্ষীয়মাণ প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে।
সহযোগিতা শুরু হলেও দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষ করে ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক অপরাধের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি আলজেরিয়া এখনো বজায় রেখেছে। এই ঐতিহাসিক ক্ষতগুলো নিরাপত্তা সহযোগিতার পথে ভবিষ্যতে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ফ্রান্স ও আলজেরিয়ার এই নতুন নিরাপত্তা আঁতাত ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। তবে এই বন্ধুত্ব কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থার ওপর।
উভয়পক্ষেরই অনেক সমস্যা সমাধানের বাকি রয়েছে। সফরের আগে, নুনেজ বলেছেন যে তিনি মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসবাদ দমন সহ ‘সকল নিরাপত্তা বিষয়’ উত্থাপন করতে চান।
সূত্র : বাসস