প্রকাশিত:
গতকাল

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই-এর শাসনের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে উত্তাল পুরা দেশ। এর মধ্যেই আজ বুধবার প্রথম কোনো বিক্ষোভকারী হিসেবে ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটির সরকার।
নরওয়েভিত্তিক হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস এ খবর জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইরান ও কুর্দিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করে।
গত ৮ জানুয়ারি রাজধানী তেহরানের পার্শ্ববর্তী কারাজ শহরের ফারদিস এলাকা থেকে এরফানকে গ্রেপ্তার করা হয়। । মূলত অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবিতে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণের কারণেই তাকে আটক করা হয়েছিল। এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে তাঁর বিচার, দোষী সাব্যস্ত করা ও অস্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
এই মৃত্যুদণ্ডকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি কর্তৃপক্ষকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন:
"যদি তারা এই ফাঁসি কার্যকর করে, তবে আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেব। ইরানি দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান—সাহায্য আসছে।"
ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছেন এবং যারা বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে, তাদের 'চরম মূল্য' দিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যের বরাতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ১১ জানুয়ারি ইরানি কর্মকর্তারা এরফানের পরিবারকে মৃত্যুদণ্ডের সাজার বিষয়টি জানিয়েছেন। ব্যাপক বিক্ষোভ আর ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকেই তিনি প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে ইরানে। মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক দুরবস্থার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুত তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটির বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা ইরানে বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করছেন।
মানবাধিকার সংস্থা 'হেঙ্গাও' এবং 'অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল' এর মতে, ইরানে গত কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ২,৫০০ ছাড়িয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেক তথ্যই বিশ্ববাসীরা জানতে পারছে না। এরফানের ফাঁসি কার্যকর হলে দেশটির পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।