প্রকাশিত:
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বিহারে এখন থেকে আর রাস্তার ধারে বা জনসমক্ষে উন্মুক্ত অবস্থায় মাছ, মাংস বা ডিম বিক্রি করা যাবে না। বিহার সরকারের নগর উন্নয়ন ও আবাসন দপ্তর থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শহরকে দূষণমুক্ত রাখতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে জেল-জরিমানাসহ লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন সরকার এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, মাছ ও মাংস ব্যবসায়ীদের জন্য বেশ কিছু নতুন নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে:
উন্মুক্ত স্থানে,প্রধান রাস্তা, ফুটপাত বা জনাকীর্ণ স্থানে খোলা অবস্থায় মাংস বা মাছ রাখা যাবে না।
দোকানদারদের অবশ্যই কালো কাঁচ বা মোটা পর্দা ব্যবহার করতে হবে যাতে বাইরে থেকে মাংস দেখা না যায়।
পশুর বর্জ্য বা রক্ত যেখানে-সেখানে ফেলা যাবে না। নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
লাইসেন্সহীন কোনো দোকান বা ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে আমিষজাত পণ্য বিক্রি করা যাবে না।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী বলছেন:
রাস্তার ধারের ছোট দোকানগুলোতে কাঁচের ঘেরা বা আধুনিক পরিকাঠামো তৈরির সামর্থ্য তাদের নেই।এই নিষেধাজ্ঞার ফলে হাজার হাজার মানুষের রুটিরুজি সংকটে পড়বে।হঠাৎ করে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া কঠোর করায় দুর্নীতির সুযোগ বাড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
বিহারের নতুন সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ। তিনি জেলা প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের পথ অনুসরণ করেই বিহার সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই আইন বাস্তবায়নে পুলিশ ও প্রশাসনের অতি-সক্রিয়তা সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়ায় কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েই যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হবে এবং পরবর্তীতে কঠোর অভিযান (Enforcement Drive) শুরু হবে।
এই আদেশ কার্যকর করার জন্য প্রতিটি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনকে এলাকাভিত্তিক তদারকি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।