প্রকাশিত:
গতকাল

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাক্টিভিস্ট মেহদি ইয়াহইয়ানেজাদ বলেন, ‘ইরানে স্টারলিংকের ফ্রি সাবস্ক্রিপশন পুরোপুরি কার্যকর থাকার বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। ইরানে নতুন করে চালু হওয়া একটি স্টারলিংক টার্মিনাল ব্যবহার করে আমরা এটি পরীক্ষা করেছি।’প্রতিষ্ঠানটির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রকল্প 'স্টারলিংক'-এর মাধ্যমে এখন থেকে ইরানি নাগরিকরা উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।
অ্যাক্টিভিস্টদের দাবি, মঙ্গলবার থেকে স্টারলিংকের সাবস্ক্রিপশন ফি মওকুফ করা হয়েছে।
ইরানে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভের খবর যেন বহির্বিশ্বে পৌঁছাতে না পারে, সেজন্য গত ৮ জানুয়ারি থেকে তেহরান কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা সীমিত করে দেয়। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া ও মেসেজিং অ্যাপগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর বিশ্ববাসীকে জানাতে স্টারলিংক এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভ চলাকালে ইরানিদের জন্য বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে স্টারলিংক। এর মাধ্যমে তারা খবর, ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছেন।
যদিও স্টারলিংক ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট 'রিসিভার কিট' বা ডিশের প্রয়োজন হয়, তবে স্পেসএক্স জানিয়েছে তারা নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে এই বাধা কাটানোর চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে কয়েক হাজার স্টারলিংক টার্মিনাল চোরাপথে ইরানে প্রবেশ করেছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সরাসরি স্যাটেলাইট সংযোগ (Direct-to-Cell) স্থাপনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
ইরান সরকার স্টারলিংকের এই পদক্ষেপকে তাদের 'সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন' হিসেবে অভিহিত করেছে। তেহরান কর্তৃপক্ষ স্টারলিংকের সরঞ্জাম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং এর ব্যবহারকারীদের শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সিগন্যাল শনাক্ত করা বা বন্ধ করা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য অত্যন্ত কঠিন।
মার্কিন প্রশাসন স্টারলিংকের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "ইরানি জনগণের বাকস্বাধীনতা ও তথ্যের অধিকার রক্ষায় এই ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।"
তবে এতে বাধা দিতে ইরানি কর্তৃপক্ষ স্টারলিংকের সিগন্যাল জ্যাম করার চেষ্টা করছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গা থেকে স্টারলিংক ডিশ জব্দ করেছে বলে জানা গেছে।
স্টারলিংকের এই ফ্রি ইন্টারনেট সেবা ইরানের বিক্ষোভকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।