প্রকাশিত:
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ট্রেনটি আসার ঠিক আগ মুহূর্তে একটি বিশাল তুষারধস রেললাইন অতিক্রম করেছিল, যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে তুষারধসের সতর্কতা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তরে (লেভেল-৪) রয়েছে। প্রবল তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হলেও সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
তুষারধসের ধাক্কায় অন্তত ৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে হেলিকপ্টারে করে সিওন (Sion) শহরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি চারজনকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজে দুটি অ্যাম্বুলেন্স, একটি হেলিকপ্টার, আটজন পাহাড়ী উদ্ধারকর্মী এবং ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ট্রেন অংশ নেয়।
সুইজারল্যান্ডের এই অঞ্চলটি বর্তমানে অত্যন্ত বিপজ্জনক আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় অঞ্চলটিতে ৫ মাত্রার মধ্যে ৪ মাত্রার (দ্বিতীয় সর্বোচ্চ) তুষারধস সতর্কতা জারি ছিল।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি রেকর্ড পরিমাণ তুষারপাত এবং প্রবল বাতাসের কারণে পাহাড়ের ঢালে জমা বরফ অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। সামান্যতম চাপ বা প্রাকৃতিকভাবেই যে কোনো সময় বড় ধরনের ধস নামার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই দুর্ঘটনার পর ফ্রুটিজেন ও ব্রিগ লাইনের মধ্যে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গপেনস্টাইন ও ব্রিগ রুটে সব ধরনের রেলসেবা স্থগিত রাখা হয়েছে এবং যাত্রীদের জন্য বিকল্প বাস সার্ভিস চালু করেছে ফেডারেল রেলওয়ে (SBB)।
রেললাইনের ওপর থেকে ভারী বরফ সরিয়ে লাইনটি পুনরায় সচল করতে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত এক সপ্তাহে ইউরোপের আল্পস পর্বতমালাজুড়ে তুষারধসের ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। গত শুক্রবার ফ্রান্সে তুষারধসে ৩ জন স্কিয়ার নিহত হন। অন্যদিকে, ইতালিতে গত এক সপ্তাহে তুষারধস ও পাহাড়ী দুর্ঘটনায় রেকর্ড ১৩ জন মারা গেছেন।পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পর্যটক ও স্কিয়ারদের অফ-পিস্ট (নির্ধারিত এলাকার বাইরে) যাতায়াত না করার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, পাহাড়ের ঢালগুলো এতটাই অস্থিতিশীল যে সামান্যতম চাপ বা একজন স্কিয়ারের চলাচলের ফলেও বড় ধরনের ধস নামতে পারে। অলিম্পিক সাইটগুলোর বাইরে অনির্ধারিত ও রক্ষণাবেক্ষণহীন পাহাড়ি এলাকাগুলোতে পর্যটক ও স্কিয়ারদের যাতায়াত এড়াতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের এই ট্রেন দুর্ঘটনাটি একটি বড় বিপর্যয় হতে পারতো, তবে ট্রেনের গতি কম থাকা এবং উদ্ধারকারীদের দ্রুত হস্তক্ষেপে ২৯ জন যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান।