প্রকাশিত:
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

আমেরিকার সঙ্গে গত জুলাইতে যে চুক্তি হয়েছে তা স্থগিত করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। গতকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ইইউ'র সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতির নানা বিষয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। তার পরেই সামগ্রিক ১০ শতাংশ শুল্ককে ১৫ শতাংশে নিয়ে যান ট্রাম্প। এর পরেই রবিবার ইইউর পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ব্লুমবার্গ নিউজের প্রতিবেদনে এটাই জানা যাচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য কমিশনার জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই চুক্তি এগিয়ে নেওয়া অসম্ভব। মূলত তিনটি প্রধান কারণে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে:
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাকে ইইউ 'অগ্রহণযোগ্য' বলে মনে করছে।
প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে কতটা আইনি সুরক্ষা পাবে, তা নিয়ে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি বড় অংশ মনে করছে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) নিয়মনীতির পরিপন্থী।
পার্লামেন্টের বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান জরুরিকালীন বৈঠক ডেকেছেন বলেও জানা গেছে। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতদের।
এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় শেয়ার বাজারে গাড়ি নির্মাতা ও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম কিছুটা কমেছে। জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো বড় অর্থনৈতিক শক্তিগুলো এই স্থগিতাদেশকে সমর্থন করলেও তারা সতর্ক করে দিয়েছে যে, এর ফলে একটি পূর্ণাঙ্গ 'বাণিজ্য যুদ্ধ' (Trade War) শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের শুল্ক নীতিতে নমনীয়তা না আনবে এবং চুক্তির আইনি বিষয়গুলো পরিষ্কার না করবে, ততক্ষণ তারা আলোচনার টেবিলে ফিরবে না। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, তারা তাদের দেশীয় শিল্প রক্ষার নীতি থেকে পিছু হটবে না।