প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
.jpg&w=3840&q=75)
ইতালিতে বসবাসরত লাখো প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক সুখবর আসতে যাচ্ছে। দেশটির বর্তমান সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নাগরিকত্ব আইন সংস্কারের বিষয়ে একটি শক্তিশালী ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত এই পরিবর্তন কার্যকর হলে ইতালিতে নাগরিকত্ব লাভের প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ ও দ্রুত হবে, যার সরাসরি সুফল পাবেন সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসরত কয়েক হাজার বাংলাদেশি।
ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি মাসেই ২০২৬ সালের বাজেটে নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আইনের আওতায় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ডিজিটাল সুবিধা যুক্ত হচ্ছে, যা আবেদনকারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইতালির পার্লামেন্টে আলোচিত এই সংস্কার প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো দেশটিতে দীর্ঘকাল ধরে বসবাসরত বিদেশিদের মূলধারার সাথে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করা। পরিবর্তনের মূল ক্ষেত্রগুলো হলো:
১. বর্তমানে একজন অ-ইউরোপীয় নাগরিককে ইতালির পাসপোর্টের আবেদন করতে টানা ১০ বছর বৈধভাবে বসবাসের প্রমাণ দিতে হয়। নতুন প্রস্তাবে এই সময়সীমা কমিয়ে ৫ থেকে ৮ বছর করার কথা ভাবা হচ্ছে।
২. এটি বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য সবচেয়ে বড় সুসংবাদ। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো বিদেশি শিশু যদি ইতালির স্কুলে অন্তত ৫ বছর পড়াশোনা সম্পন্ন করে, তবে সে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবে। ইতালিতে বড় হওয়া বাংলাদেশি শিশুদের জন্য এটি একটি বিশাল সুযোগ।
৩. নাগরিকত্বের আবেদন জমা দেওয়ার পর বর্তমানে ২ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। নতুন প্রক্রিয়ায় এই সময় কমিয়ে সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে পাসপোর্ট প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইন সংশোধনের ফলে নাগরিকত্ব আবেদন প্রক্রিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমে আসবে বলে মনে করছেন ইতালি প্রবাসীরা। জানা গেছে, সরকারের ‘ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন’ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকেই অভিবাসীরা এর পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পেতে পারেন।
ইউরোপের মধ্যে ইতালিতেই অন্যতম বৃহৎ বাংলাদেশি প্রবাসী গোষ্ঠী বসবাস করে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী:হাজার হাজার বাংলাদেশি বর্তমানে ১০ বছরের শর্ত পূরণ করে আবেদনের অপেক্ষায় আছেন।ইতালির স্কুলগুলোতে পড়ুয়া দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশি শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। আইনটি পাস হলে তারা সরাসরি ইতালীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত হবে।নাগরিকত্ব পেলে বাংলাদেশিরা ইতালির সরকারি চাকরিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের যেকোনো দেশে অবাধে বসবাস ও কাজ করার অধিকার পাবেন।
ভোগান্তি কমাতে নেওয়া এই উদ্যোগের ফলে নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আগে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ফাইল এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরতে ঘুরতে অনেক সময় কয়েক বছর লেগে যেত। নতুন ব্যবস্থায় সব তথ্য জাতীয় ডিজিটাল ডাটাবেজের মাধ্যমে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ফাইল নিষ্পত্তি দ্রুত হবে।
ইতালির বর্তমান জোট সরকারের অন্যতম শরিক দল 'ফোরজা ইতালিয়া' এই সংস্কারের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। বিরোধী দলগুলোও আগে থেকেই এই পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ইতালির ক্রমবর্ধমান শ্রমসংকট মেটাতে এবং জনসংখ্যাগত ভারসাম্য বজায় রাখতে বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
স্থানীয় অভিবাসীরা বলছেন, প্রবাসীদের জন্য এই পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা নতুন করে ইতালিতে আসতে চান অথবা সিজনাল ভিসায় এসে নিয়ম মেনে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।
ইতালি সরকার এখন দক্ষ ও বৈধ অভিবাসীদের দ্রুত নাগরিকত্ব দিয়ে দেশটির মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায় বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইতালির নাগরিকত্ব আইনের এই ইতিবাচক মোড় প্রবাসীদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে। যদিও আইনটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়, তবে রাজনৈতিক মহলের তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, খুব দ্রুতই প্রবাসী বাংলাদেশিরা ইতালির পাসপোর্টের মালিক হওয়ার সহজ পথ খুঁজে পাবেন।