প্রকাশিত:
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর আরোপিত বিতর্কিত ‘থাকার নিষেধাজ্ঞা’ বা ‘বাংলাদেশ বয়কট’ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে স্থানীয় হোটেল মালিকদের সংগঠন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শিলিগুড়ি হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক জরুরি সভা শেষে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে পূর্বের মতোই বাংলাদেশি পর্যটকরা শিলিগুড়ির সব হোটেলে থাকতে পারবেন।
গত মাসের শুরুতে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ এবং ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননার প্রতিবাদে শিলিগুড়ির বেশ কিছু হোটেল মালিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশি পর্যটকদের রুম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ‘বয়কট বাংলাদেশ’ ডাকটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়িতে এর ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
বিশ্লেষক এবং সংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত তিনটি কারণে হোটেল মালিকরা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন:
শিলিগুড়ির অর্থনীতির একটি বড় অংশ বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। বয়কটের ফলে গত এক মাসে স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং পরিবহন খাতে আয় প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ কমে গেছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হোটেল মালিকদের জানানো হয় যে, কোনো বিশেষ দেশের নাগরিকদের ওপর এভাবে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা আইনগতভাবে সমর্থনযোগ্য নয় এবং এটি ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শিলিগুড়ি মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (TAAB) এই বয়কটের বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের দাবি ছিল, আবেগের বশে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
শিলিগুড়ি হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এক বিবৃতিতে বলেন:
"আমরা আমাদের প্রতিবাদের ভাষা পৌঁছে দিতে চেয়েছিলাম। তবে পর্যটন শিল্পের স্বার্থে এবং প্রশাসনের অনুরোধে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছি। আমরা চাই প্রতিবেশী দেশের পর্যটকরা নিরাপদভাবে শিলিগুড়িতে আসুক এবং আমাদের আতিথেয়তা গ্রহণ করুক।"
বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভারতবিরোধী মনোভাবের অভিযোগ তুলে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর শিলিগুড়ির হোটেল মালিকরা বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। পরবর্তীতে ভিসা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তা পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞায় রূপ নেয়।
এদিকে কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় দিল্লি ও আগরতলার সঙ্গে সমন্বয় করে শিলিগুড়ির বাংলাদেশ ভিসা সেন্টার পুনরায় চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই সেখানে কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা, ব্যবসা বা ভ্রমণে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে যারা উত্তরবঙ্গ হয়ে নেপাল বা ভুটানে ভ্রমণে যান, তাদের জন্য শিলিগুড়ি একটি প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট। এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর অর্থনীতি আবারও চাঙা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।