প্রকাশিত:
গতকাল

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবং ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলার লক্ষ্যে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে একটি নতুন ও শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা অপারেশন সেল চালু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত ১২ জানুয়ারি (২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই কেন্দ্রটি মূলত আকাশপথের নিরাপত্তা সুসংহত করতে ১৭টি মিত্র দেশের মধ্যে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে।
নতুন কেন্দ্রটির নাম হলো ‘মিডল ইস্টার্ন এয়ার ডিফেন্স কম্বাইন্ড ডিফেন্স অপারেশনস সেল (এমইএডি-সিডিওসি)’ এবং এটি কম্বাইন্ড এয়ার অপারেশনস সেন্টার (সিএওসি)-এর আওতায় পরিচালিত হবে। কাতারে বিমান প্রতিরক্ষা অপারেশন সেল খুলল আমেরিকা।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের আল-উদেইদ এয়ার বেসে একটি নতুন কেন্দ্র খোলার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যেটি মধ্যপ্রাচ্যে বায়ু ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সমন্বয় করবে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সামরিক স্থাপনায় সতেরোটি দেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
নতুন কেন্দ্রটির নাম হলো ‘মিডল ইস্টার্ন এয়ার ডিফেন্স কম্বাইন্ড ডিফেন্স অপারেশনস সেল (এমইএডি-সিডিওসি)’ এবং এটি কম্বাইন্ড এয়ার অপারেশনস সেন্টার (সিএওসি)-এর আওতায় পরিচালিত হবে।এতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অংশীদার দেশগুলোর সেনা সদস্যরাও থাকবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, নতুন এই ইউনিটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিডল ইস্টার্ন এয়ার ডিফেন্স – কম্বাইন্ড ডিফেন্স অপারেশনস সেল’ (MEAD-CDOC)। এর প্রয়োজনীয়তার পেছনে সমন্বিত সুরক্ষা,ইরান সংকট ও রিয়েল-টাইম ইন্টেলিজেন্সই হলো প্রধান কিছু কারণ।
সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই উদ্যোগকে ‘আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি ঐতিহাসিক ধাপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, "এই সেলটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।"
তিনি আরও বলেন, ইউএস এয়ার ফোর্স সেন্ট্রাল (এএফসিইএনটি)-এর কর্মীরা অঞ্চলের অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ মহড়ার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া নিয়ে কাজ করবেন।
তবে ইরানের সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘কঠোর পদক্ষেপ’ হুমকির পর, ইরানের জাতিসংঘ মিশন এক্সে পোস্ট করে বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতি মূলত শাসন পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে।
কাতারই মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ, যা ইসরায়েল এবং ইরান, উভয়ের আক্রমণের মুখে পড়েছে। তবুও, দোহা ও তেহরান বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র ভাগাভাগি করে এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
ইতিমধ্যেই কাতার ও বাহরাইনের সঙ্গে পৃথক প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই বহুজাতিক সেলটি মূলত সেই সহযোগিতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে একটি ‘অদৃশ্য সুরক্ষা প্রাচীর’ গড়ে তুলল পেন্টাগন, যা মূলত ইরান ও তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানাবে।
উল্লেখ্য, এমইএডি-সিডিওসি কেন্দ্রের উদ্বোধনের আগে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার এবং বাহরাইনের সঙ্গে দুটি দ্বিপাক্ষিক বায়ু ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কেন্দ্র খোলা হয়েছিল।