প্রকাশিত:
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

জেনেভায় শুরু হতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা। সেই আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকবেন বলে জানিয়েছেন। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তার বিশ্বাস, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। খবর বিবিসি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ আলোচনা। এমন একটি সংকটময় পরিস্থিতিতে আলোচনাটি হতে যাচ্ছে, যখন ইরানকে বারবার আক্রমণের হুমকি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে, সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও বাস্তবসম্মত হয়েছে বলে তারা মনে করছে।
রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বৃত্ত থেকে তেহরানকে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, যেকোনো চুক্তিতে যদি আমেরিকার ‘জাতীয় স্বার্থ’ শতভাগ সংরক্ষিত না হয়, তবে ভবিষ্যতে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে সেই চুক্তি আবারও বাতিল হতে পারে।তেহরান এবার আর কেবল বর্তমান ডেমোক্র্যাট প্রশাসনের ওপর ভরসা করতে পারছে না। তারা জানে, ট্রাম্পের সমর্থন বা মৌন সম্মতি ছাড়া যেকোনো চুক্তি হবে বালির বাঁধের মতো ক্ষণস্থায়ী।
আসন্ন এই আলোচনাকে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তেহরান এবার সমঝোতার জন্য আগ্রহী। গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কঠোর অবস্থানের পরিণতি কী হতে পারে, তা ইরান আগেই টের পেয়েছে। তাই চুক্তি না করার পরিণাম এবার ইরান আর ভোগ করতে চাইবে না।
মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জবাবে ইরানও নিজস্ব শক্তি প্রদর্শন করেছে। সোমবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে নৌ মহড়া শুরু করেছে।
ট্রাম্প সবসময় ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অনুসারী। বর্তমানে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা আংশিক প্রত্যাহারের যে কথা চলছে, সেখানে ট্রাম্পপন্থীদের দাবি—আমেরিকার নিজস্ব উৎপাদন না বাড়িয়ে ইরানকে সুবিধা দেওয়া যাবে না। এই রাজনৈতিক চাপ জো বাইডেন বা বর্তমান প্রশাসনকে আলোচনার টেবিলে অনেক বেশি রক্ষণশীল হতে বাধ্য করছে।
দৃশ্যত আলোচনা হচ্ছে ইরান ও বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে। কিন্তু টেবিলের অদৃশ্য তৃতীয় চেয়ারটি দখল করে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং মার্কিন নীতিনির্ধারকরা—উভয়ই জানেন যে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মার্কিন নির্বাচনের যে ডামাডোল শুরু হবে, সেখানে ট্রাম্পের অবস্থানই হবে চূড়ান্ত।
বিশেষজ্ঞের মতে "ইরান এখন আর কেবল হোয়াইট হাউসের বর্তমান বাসিন্দার সাথে কথা বলছে না, তারা কথা বলছে আমেরিকার সেই শক্তির সাথে যারা আগামী দিনে ক্ষমতার কেন্দ্রে আসতে পারে। ট্রাম্পের পরোক্ষ উপস্থিতি এই আলোচনাকে আরও জটিল কিন্তু বাস্তবসম্মত করে তুলেছে।"