প্রকাশিত:
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেশটির অন্তত পাঁচটি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ভূমিধসে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ধসে পড়ায় প্রাণ বাঁচাতে কয়েক হাজার মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।
পেরুর জাতীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা ইনস্টিটিউট (INDECI) জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় অঞ্চল এবং আন্দিজ পর্বতমালা সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বৃষ্টির তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। পাহাড়ি ঢল ও কাদার স্রোতে (যাকে স্থানীয়ভাবে ‘হুইকো’ বলা হয়) অন্তত ৩৫০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং ১,২০০-এর বেশি পরিবার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রবল বর্ষণের মধ্যে ভূমিধসে ভেসে যাওয়া এক বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। দুর্যোগে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজারো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরেকুইপার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অঞ্চলটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
সরকারি তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৮,০০০ মানুষ বিভিন্ন স্কুল, গির্জা এবং অস্থায়ী তাবু খাটিয়ে তৈরি করা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। রাজধানী লিমার উত্তরের জেলাগুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক শিশু ও বৃদ্ধ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিধসের কারণে পেরুর প্রধান কয়েকটি মহাসড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আটকা পড়া মানুষকে উদ্ধার করছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট দিনা বলুয়ার্তে দুর্যোগকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বলেছেন:
"আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। জাতীয় দুর্যোগ তহবিল থেকে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সামগ্রী ও পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
এই দুর্যোগের মধ্যেই গতকাল সোমবার বন্যা উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৫ জন নিহত হন। চালা জেলায় হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ১১ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য ছিলেন, যাদের মধ্যে সাতজনই শিশু।
পেরুর আবহাওয়া দপ্তর (SENAMHI) সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। ফলে নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কায় নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এল নিনো (El Niño) জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এর তীব্রতা বাড়ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা চরম আবহাওয়া, অতিবৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।