প্রকাশিত:
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসে লক্ষ্মীপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হওয়া ঐতিহাসিক গণভোটের ফলাফল এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। এই প্রসঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন:
“গণভোট হলো জনগণের সরাসরি রায়। যখন দেশের মালিক বা জনগণ কোনো একটি সনদে ‘হ্যাঁ’ বলে রায় দেয়, তখন সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি জাতীয় ম্যান্ডেটে পরিণত হয়। এই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নতুন করে শপথ নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, জনগণের দেওয়া এই রায় অনুযায়ী সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংস্কার সম্পন্ন করা হবে এবং এটি কোনো আইনি জটিলতায় পড়বে না।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি বিশেষ গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এই গণভোটের মূল বিষয় ছিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধনী) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’।
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় ৬৮.৫৯% ভোটার ‘হ্যাঁ’ পক্ষে রায় দিয়েছেন। মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি মনে করেন, যেহেতু এই ভোট ‘জুলাই বিপ্লবের’ শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আসা একটি সংস্কার প্রস্তাবের ওপর হয়েছে, তাই এর নৈতিক ভিত্তি যেকোনো আনুষ্ঠানিক শপথের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
পানিসম্পদমন্ত্রী বিরোধদলকে উদ্দেশ্যে করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এ্যানি বলেন, ‘বিরোধী দল সরকারকে কীভাবে সহযোগিতা করবে? দেশটাকে কীভাবে চালিয়ে নেবে? সহযোগিতা করবে, আন্তরিকতার মধ্যে দিয়ে, দলমত-ভিন্ন থাকতে পারে, সব ইস্যুতে বিরোধিতা করবো, সেই বিরোধিতা থেকে পিছিয়ে এসে দেশটাকে কীভাবে গড়বো, সেটা নিয়ে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করবো। সেটাই হোক—আমাদের প্রত্যাশা।’
কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইনি বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, গণভোটের সিদ্ধান্তগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার আগে এর বৈধতা নিয়ে কোনো আইনি সংকট তৈরি হবে কি না। এর জবাবে মন্ত্রী বলেন, নতুন নির্বাচিত ১৩তম জাতীয় সংসদ প্রথম ১৮০ দিন ‘সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল’ হিসেবে কাজ করবে। তাই আলাদা কোনো শপথ ছাড়াই এই সংসদ গণভোটের ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ করার পূর্ণ আইনগত কর্তৃত্ব রাখে।
পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম দাপ্তরিক দিনে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে কাজ করবে। পানি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জাতীয় সংস্কারের প্রতিটি পদক্ষেপে জনগণের রায়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।