প্রকাশিত:
১২ জানুয়ারী, ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন রাজধানীর বাড্ডায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা এক হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে নতুন করে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হলে আদালত এই আদেশ দেন।
আজ সোমবার কারাগার থেকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
বাড্ডা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক জাকির হোসেন বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শুনানি শেষে তাকে পুনরায় প্রিজন ভ্যানে তুলে কারাগারে নেওয়ার সময় আদালত চত্বরে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা ও আন্দোলনকারীরা তাকে লক্ষ্য করে ভুয়া-ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে একদল বিক্ষোভকারী পলককে বহনকারী প্রিজন ভ্যান লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম নিক্ষেপ করেন। পুলিশের কড়া বেষ্টনী থাকা সত্ত্বেও উত্তেজিত জনতাকে সামলাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে বেশ বেগ পেতে হয়। পরে দ্রুতগতিতে গাড়িটি আদালত চত্বর ত্যাগ করে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই মামলার বাদী মো. দুর্জয় আহম্মেদ (২৮) কোটা আন্দোলনের মিছিলে অংশগ্রহণ করে বাড্ডা থানাধীন মধ্যবাড্ডা ইউলুপের নিচে পোষ্ট অফিস গলির মাথায় রাস্তার উপর অবস্থানকালে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় তাদের অনুসারিদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য এলোপাতাড়ি গুলি করলে বাদীর দুই চোখ অন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া মাথায় পিছনে আঘাত লেগে গুরুত্বর আঘাত প্রাপ্ত হয়। ওই সময়ে আসামিরা বাদীকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। পথচারী লোকজনের সহায়তায় বাদী এ এম জেড হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রেফার্ড করে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯০ জনের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন দুর্জয় আহম্মেদ।
আদালতে পলকের আইনজীবীরা এই মামলার জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ তার তীব্র বিরোধিতা করে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, পলক সরাসরি এসব সহিংসতার নির্দেশনার সাথে জড়িত ছিলেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পলককে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট নিকুঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে পলক বিভিন্ন দফায় রিমান্ডে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে এ পর্যন্ত শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। একের পর এক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোয় তার আইনি মুক্তি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।