প্রকাশিত:
১০ জানুয়ারী, ২০২৬

জানা গেছে, এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নার্সদের মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালের ডাক্তার নার্সিং সুপারভাইজার নুর জাহান, হ্যাপী রানী সূত্রধর, সীমা কর্মকার, রত্না বসাক, রানী বালা, দেলোয়ারা বেগম।
একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হাসপাতালের সিনিয়র দুইজন নার্স অপারেশন থিয়েটারের কক্ষে শীতের পিঠা তৈরি করছেন, অন্যরাও অবাধে আসা-যাওয়া করছেন। ঠিক পাশের কক্ষে চলছে সিজার অপারেশন। সেখানেও রোগীর স্বজনদের অবাধ চলাফেরা দেখা গেছে।
অপর একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, চার-পাঁচ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স রান্নায় ব্যস্ত, আর পাশের কক্ষে চলছে রোগীদের চিকিৎসা।
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন চলে আসা বেহাল অবস্থার বিষয়ে লেবার ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসকরা অবগত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এখান থেকে রান্না করে চিকিৎসকরাও ব্যক্তিগত খাবার পরিবেশনের আয়োজন করে থাকেন।
রাকিব নামে একজন জানান, তাঁর বোনের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে আজ ফেনী জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে এখানে এসে শোনেন নার্সরা নাকি অপারেশন থিয়েটারে রান্না করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক রোগীর স্বজন বলেন, সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে সংবাদ সংগ্রহ করছে জেনে কয়েকজন নার্স খুব দাম্ভিকতা দেখিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নার্সদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা রাজী হয়নি। এক পর্যায়ে ওয়ার্ড ইনচার্জ স্বপ্না এ বিষয়ে আরএমওর সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের (আরএমও) ডা. রৌকন উদ দৌলা বলেন, ওটির ভেতর রান্নাবান্না! এটা অসম্ভব ব্যাপার। ওটির ভেতরে কিভাবে রান্নাবান্না করে ! সংক্রমণের অনেক বিষয় আছে এখানে। আমরা অবশ্যই এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, এমন অনিয়ম সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায় এবং চিকিৎসা শৃঙ্খলার চরম লঙ্ঘন।
ফেনী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। পরে তাকে এ সংক্রান্ত ভিডিও দেখানো হলে তিনি বলেন, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হাসপাতালের কর্মচারী মোশারফকে সরেজমিন দেখার জন্য পাঠানো হলে তাৎক্ষণিক রান্নার সামগ্রী লুকিয়ে ফেলা হয়।
তত্ত্বাবধায়ক শিগগিরই তদন্ত কমিটি করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার কথা জানান।
ফেনীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অপারেশন থিয়েটারে রান্নাবান্না করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা এ বিষয়ে অবশ্যই খোঁজ খবর নেব।