প্রকাশিত:
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংক্রান্ত জালিয়াতি রোধ এবং আবেদনকারীদের ভোগান্তি কমাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সম্প্রতি এনআইডি অনুবিভাগ থেকে দেশের সকল উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে ৫ দফা সংবলিত একটি বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নতুন এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
ইসির ৫টি মূল নির্দেশনা:
১. তথ্যাদি যাচাইয়ে কড়াকড়ি: নতুন আবেদন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে দাখিলকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং অনলাইন জন্মনিবন্ধন অবশ্যই ডিজিটাল ডাটাবেজের সাথে মিলিয়ে দেখতে হবে। কোনো অমিল পাওয়া গেলে আবেদনটি সরাসরি বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২. পিতা-মাতার তথ্য সংশোধন: আবেদনকারী নিজের নামের সাথে মিল রেখে পিতা বা মাতার নাম পরিবর্তন করতে চাইলে, সংশ্লিষ্ট পিতা বা মাতার এনআইডি কার্ডের কপি এবং ভাই-বোনের এনআইডি তথ্যের সাথে সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত করতে হবে। ঢালাওভাবে নাম পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে না।
৩. ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও বায়োমেট্রিক আপডেট: যাদের এনআইডি কার্ডে আঙ্গুলের ছাপ অস্পষ্ট বা ম্যাচ করছে না, তাদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে পুনরায় বায়োমেট্রিক প্রদানের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে।
৪. প্রবাসী ও নতুন ভোটারদের জন্য বিশেষ সেল: প্রবাসীদের এনআইডি প্রাপ্তি সহজ করতে এবং ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া নতুন ভোটারদের দ্রুত নিবন্ধন নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলায় একটি 'হেল্প ডেস্ক' কার্যকর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫. দালাল চক্র ও অসদুপায় রোধ: এনআইডি সংশোধনের নামে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা দালালের সহায়তা নিলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে আবেদন ঝুলে থাকলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও আরও কিছু নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। এগুলো হলো: জন্ম তারিখ সংক্রান্ত যেসব আবেদন আগে ‘ক-১’ থেকে ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ছিল, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে। প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব আবেদনের ক্যাটাগরি পরিবর্তন করে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সংশোধন কার্যক্রম সীমিত থাকায় বর্তমানে জমে থাকা অনিষ্পন্ন আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এনআইডি সংক্রান্ত যেকোনো ফি কেবল নির্ধারিত ব্যাংকিং চ্যানেল বা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/রকেট) এর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। কোনো ব্যক্তিকে নগদ অর্থ প্রদান করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।