প্রকাশিত:
২৪ জানুয়ারী, ২০২৬

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে ১০–দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। জনসভা শেষে তিনি বগুড়ার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাঁদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন। পরে তিনি শেরপুরের জনসভায় যোগ দেন।
বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের রাজধানীখ্যাত উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, সাতমাথা পুরো উত্তরবঙ্গকে যুক্ত করেছে। আল্লাহ যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন, বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হবে।
তিনি বলেন, শত শত বছরের ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও বগুড়ায় আজও একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হয়নি; সুযোগ পেলে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
উন্নয়নের অর্থের উৎস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো দয়ার দান নয় বা দলীয় তহবিল থেকেও নয়—জনগণের অর্থেই উন্নয়ন হবে। তিনি অভিযোগ করেন, গেল সাড়ে ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। সেই অর্থ জনগণের উন্নয়নে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে এবং সুদের জট কাটিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ চুরি বন্ধ করা হবে।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, চাঁদার কারণে কৃষক ন্যায্যমূল্য পায় না, ভোক্তাও ন্যায্য দামে পণ্য কিনতে পারে না। জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়া হবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নির্যাতিত ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দল হলেও কখনো মুদিদোকানি, হকার বা ফকিরের কাছ থেকে চাঁদা নেয়নি। যারা কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজেদের হাত পরিচ্ছন্ন রেখেছে, তারাই আগামীর পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়বে।
তিনি বলেন, একসময় ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার কথা বলা হলেও ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মানুষ তা পায়নি। জনগণ আর ধোঁকা দেখতে চায় না। জামায়াত জনগণের অর্থ জনগণের জন্যই সততার সাথে ব্যয় করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, মায়েদের ইজ্জতের মূল্য জীবনের চেয়েও বেশি। কোনো লম্পটের জায়গা এ দেশের মাটিতে হবে না। ঘরে ও বাইরে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব এবং তারা দেশ গড়ায় পুরুষের পাশাপাশি অবদান রাখবেন।
যুবকদের বিষয়ে তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে যুবসমাজকে অপমান বা বাংলাদেশকে বেকারের কারখানা বানাতে চান না। প্রতিটি যুবকের হাতে মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দিয়ে তাদের দেশ গড়ার কারিগর বানানো হবে। শিক্ষিত বেকারদের দক্ষ করে দেশে ও বিদেশে মর্যাদার সাথে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
এরপর শেরপুরের মহিপুর খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভায় বেলা ২টা ১৭ মিনিটে মঞ্চে উঠে ১১ মিনিট বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। সেখানে তিনি বলেন, ভোট মানে চোখ রাঙানিকে পরোয়া না করা। সব দেশের সাথে বন্ধুত্ব থাকবে, কিন্তু কেউ প্রভু হয়ে এলে তা বরদাস্ত করা হবে না। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জনগণ জুলাইয়ে স্থায়ী লাল কার্ড দেখিয়েছে।
তিনি আরও অঙ্গীকার করেন, ক্ষমতায় গেলে জনগণের একটি টাকার ওপরও হাত দেওয়া হবে না এবং ৫৬ হাজার বর্গমাইলে চাঁদাবাজদের অস্তিত্ব সহ্য করা হবে না। সব পর্যায়ের দুর্নীতি মাটির নিচে পুঁতে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচার আর টাকার বিনিময়ে বিক্রি হবে না। ধর্ম, বয়স বা পেশা নয়—আদালত দেখবে কেউ মজলুম কি না; হলে অবশ্যই তার পক্ষে রায় হবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যদি সত্য থেকে হেলে যাই, আমাদেরও ছাড় দেবেন না। একই সাথে তিনি সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলতে এবং কোনো সত্য আড়াল না করতে আহ্বান জানান। এতে দেশ সঠিক পথে চলবে এবং গণমাধ্যমের অবদান জনগণ স্মরণ করবে বকেও উল্লেখ করেন তিনি।