প্রকাশিত:
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বিএনপি ছেড়ে ২০০৬ সালে এলডিপি গঠন করেছিলেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। শুরুতে সাড়া ফেললেও পরে দলে ভাঙন ও অনেক নেতাকর্মী চলে যাওয়ায় শক্তিমত্তা হারায় এলডিপি। সর্বশেষ এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে দলটি। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটে যোগ দিয়ে সাতটি আসনে প্রার্থী দিলেও কোনোটিতেই জয়ের দেখা পায়নি।
বিএনপি ছেড়ে আসার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে এলডিপি ১৮ আসনে প্রার্থী দিলেও একটি আসনে জেতে। চন্দনাইশের আসনটিতে জয় পান অলি আহমদ। সেবার ১৮ আসনে সব মিলিয়ে এক লাখ ৯১ হাজার ৬৭৯ ভোট পায় দলটি। এবার অবশ্য সাত আসনে দুই লাখ ৪৮ হাজার ৬৩৩ ভোট পেয়েছে এলডিপি। এর মধ্যে তিনটি আসনে তারা পেয়েছে মাত্র ৭৯২ ভোট! এ পরিস্থিতিতে অলি ও তাঁর দল এলডিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এবার চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে এলডিপি প্রার্থী এয়াকুব আলী পেয়েছেন মাত্র ১১৮ ভোট, ভোলা-২ (দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন) আসনে মোকফার উদ্দিন চৌধুরী পেয়েছেন ৩৮১ ভোট আর ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে মাহমুদ মোরশেদ পেয়েছেন ২৯৩ ভোট। তবে অন্য আসনগুলোতে তুলনামুলক ভালো ভোট পেয়েছে এলডিপি।
অলির কারণে ছেলে ওমর ফারুককেও এবারের নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি জামায়াত জোটে যোগ দেওয়ায় আসনটি নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএনপি এলাকার ধনাঢ্য ব্যকতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনকে দলের মনোনয়ন দেয়। নির্বাচনে দলকে আসনটি উপহার দিয়ে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। নির্বাচনে বিএনপির নতুন মুখ তিনি।
অলির কারণে চট্টগ্রাম-৮ আসনটি ‘প্রেস্টিজ ইস্যুর’ আসনে পরিণত হয়। ছেলে ওমর ফারুকের জয় নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালান অলি আহমদ। প্রচারণায় পরস্পরকে টার্গেট করে ‘বিষ বাক্য’ ছুঁড়েন বিএনপি ও এলডিপি নেতাকর্মীরা। এমনকি আক্রমণাত্মক ছিলেন অলি আহমদ ও জসিম উদ্দিনও। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে স্থানীয় এলডিপির কিছু নেতাকর্মীর আগে থেকেই সুসম্পর্ক ছিল। দলের লোকজন ও ভোটারদের একাংশ অলির জামায়াত জোটে যাওয়াকে ভালোভাবে নেয়নি। এটিকে ওমর ফারুকের পরাজয়ের বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে ‘বিতর্কিত সুসম্পর্ক’- এই ঘরানার ভোট পেয়েছেন বলে মনে করেন এলাকার লোকজন। এটাও নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের আরও একটি কারণ।
২০১৯ সালের শেষ দিকে এলডিপি ছেড়ে বিএলডিপি গঠন করা শাহাদাত হোসেন সেলিম এবার দল বিলুপ্ত করে লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে জয় পেয়েছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি তাঁকে মর্যাদার সাথে জোটে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি জামায়াত জোটে ভিড়েছেন। আমরা তো ভোটের ফল দেখলাম। চোখের সামনে একজন বড় রাজনীতিবিদের আত্মহত্যা দেখলাম।
এদিকে ছেলের পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না অলি আহমদ। তাঁর ছেলে ওমর ফারুককে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক বলেন, এলডিপি জামায়াত জোটে আছে, ভবিষ্যতেও এই জোটে থাকবে। নির্বাচনে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫১৩ জন। পুরুষ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৪৭ জন, নারী ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৫ এবং হিজড়া ভোটার ১ জন। মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭২৮টি। ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। প্রার্থী ছিলেন ৮ জন। ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মো. সোলাইমান পেয়েছেন ২২ হাজার ভোট। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৩০ এবং শফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ১৬৫ ভোট।
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপি প্রার্থী ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। মাত্র এক হাজার ২৬ ভোটে পরাজিত হন ওমর ফারুক।