প্রকাশিত:
৩০ জানুয়ারী, ২০২৬

সাক্ষাৎকারে জামায়াতের প্রধান পদে নারী আসতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান সরাসরি বলেন, "এটি সম্ভব নয়।" এর কারণ হিসেবে তিনি জৈবিক ও সৃষ্টিগত পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "আল্লাহ প্রত্যেককে তাঁর নিজস্ব সত্তায় সৃষ্টি করেছেন। একজন পুরুষ কখনো সন্তান ধারণ করতে পারবে না বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবে না। আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, আমরা তা পরিবর্তন করতে পারি না।"
তিনি আরও যোগ করেন যে, মাতৃত্বকালীন শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ক্ষেত্রে নারীদের পক্ষে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। তবে তিনি জানান, সংসদ নির্বাচনে এবার নারী প্রার্থী না থাকলেও ভবিষ্যতে তাঁদের অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে দল।
জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশে ইসলামি আইন চালু হবে কি না—এমন প্রশ্নে আমিরে জামায়াত বলেন, এটি একক কোনো ব্যক্তির সিদ্ধান্ত নয়। তিনি জানান, "যদি দেশের মঙ্গলের জন্য এটি অপরিহার্য হয়, তবে সংসদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এটি আমি নই, সংসদই বিষয়টি স্থির করবে।"
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁরা কোনো কিছুই চাপিয়ে দেবেন না।
মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান দাবি করেন, তৎকালীন জামায়াতের সিদ্ধান্ত ছিল কেবল একটি 'রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত'। ভারতের আধিপত্যের আশঙ্কায় তাঁরা পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন বলে মন্তব্য করেন। তবে বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সে সময় আধা সামরিক বাহিনীগুলো পাকিস্তান সেনাবাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল।
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে জামায়াতের বিরুদ্ধে ওঠা কোনো অভিযোগই আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্টকেও তিনি 'মিথ্যা অপপ্রচার' বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির নেতাদের উদীচী বা ছায়ানটের বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্যের নিন্দা জানান শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইসলামী ছাত্রশিবির জামায়াতের কোনো অঙ্গসংগঠন বা আইনি কাঠামোর অংশ নয়। যদি তারা ভুল করে থাকে, তবে তাদের সংশোধন করতে হবে এবং পুনরায় এমন করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারতের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি জানান, তাঁরা দিল্লির সাথে ফলপ্রসূ সংলাপ করতে চান এবং প্রতিবেশীদের কোনো অস্বস্তিতে না ফেলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক আশা করেন। আসন্ন নির্বাচনে তরুণ প্রজন্ম জামায়াতকে গ্রহণ করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।