প্রকাশিত:
১৩ জানুয়ারী, ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে মাত্র ১০৯ জন নারী, অর্থাৎ ৪ শতাংশের সামান্য বেশি। এত কমসংখ্যক নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে জনগণের সামনে রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যাখ্যা ও জবাবদিহি চেয়েছেন নারী অধিকারকর্মীরা।
আজ সোমবার নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। এ সময় নির্বাচন কমিশনের কাছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহির দাবি করা হয়।
নারীর রাাজনৈতিক অধিকার ফোরামে যুক্ত রয়েছে ১২টি সংগঠন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রকাশক মাহরুখ মহিউদ্দিন, নারীগ্রন্থ প্রবর্তনার পরিচালক সীমা দাস, ক্ষুব্ধ নারী সমাজের আহ্বায়ক ঋতু সাত্তার, নারীপক্ষের সদস্য সাদাফ সায্ সিদ্দিকী ও বহ্নিশিখার পরিচালক সামিনা ইয়াসমিন।
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে মোট ২,৫৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ১০৯ জন। অর্থাৎ, মোট প্রার্থীর মাত্র ৪.২৪ শতাংশ নারী।নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দল একজন নারী প্রার্থীকেও মনোনয়ন দেয়নি।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার দাবি করলেও, বিশ্লেষণে দেখা গেছে অধিকাংশ দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কিছু বড় দল একজন নারী প্রার্থীও দেয়নি।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর–রুনি মিলনায়তনে ‘নারী প্রার্থী মনোনয়নের সংকট: রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের ব্যবধান এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি’ শিরোনামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর ধারা ২২(খ)-(ঘ) অনুযায়ী, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে এবারের সংসদীয় নির্বাচনে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে। পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে তা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৩৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। অথচ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টিরই কোনো নারী প্রার্থী নেই।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর ধারা ২২ অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে নারী প্রার্থিতা ৩৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। যার প্রথম ধাপ হিসেবে এবারের নির্বাচনে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল।
নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নিয়ে আসার লক্ষ্য থাকতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোর উল্লেখ করে সাদাফ সায্ সিদ্দিকী বলেন, অনেক নারী নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী, কিন্তু তাঁদের সুযোগ দেওয়া হয় না। প্রক্রিয়া যদি শুরু হয়, তাহলে অনেক নারী আসবেন। তিনি প্রশ্ন করেন, রাজনৈতিক দলগুলো ৫ শতাংশ মনোনয়ন দেওয়ার ন্যূনতম প্রতিশ্রুতিও রাখেনি, তাহলে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের ওপর কেন আস্থা রাখবে জনগণ?
সংবাদ সম্মেলনে ১২টি সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে:
রাজনৈতিক দলের সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী কোটা দ্রুত বাস্তবায়ন।
নির্বাচনী খরচ কমিয়ে নারীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা।
যেসব দল জুলাই সনদ ভঙ্গ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কৈফিয়ত তলব।
২০৩০ সালের মধ্যে সাধারণ আসনে ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে আরপিও সংশোধন।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অর্ধেক জনসংখ্যাকে বাইরে রেখে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। জুলাই বিপ্লবের ফসল হিসেবে যে বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, নারী প্রার্থীদের এই নগণ্য সংখ্যা সেই স্বপ্নের ওপর বড় একটি আঘাত।