প্রকাশিত:
৯ জানুয়ারী, ২০২৬

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি ধানের শীষের প্রার্থীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
ভিডিও বার্তায় একরামুজ্জামান জানান, দেশ ও দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং নাসিরনগরে জাতীয়তাবাদী শক্তির বিজয় নিশ্চিত করতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি বরাবরই জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী। তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে এবং ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত করতে আমি আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছি।" তিনি তার সমর্থকদের ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
নাসিরনগর আসনে একরামুজ্জামানের একটি বিশাল নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। ২০০১ সাল থেকে তিনি এই আসনে বিভিন্ন সময় স্বতন্ত্র ও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছিলেন। এবারও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকায় ভোটের লড়াই ত্রিমুখী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
আজ সকালে এনামুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানী ঢাকার গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি (একরামুজ্জামান) দেখা করেন। নানা বিষয়ে তাঁদের আলোচনা হয়। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাঁকে নির্দেশ দেন। বিএনপির দলে থাকার জন্য বলেছেন এবং তাঁর বহিষ্কার প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার সম্মানে ও তারেক রহমানের নির্দেশনায় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
একরামুজ্জামান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একরামুজ্জামান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে এর আগেও একাধিকবার প্রার্থী হয়েছিলেন।
একরামুজ্জামানের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তারা মনে করছেন, এই ঐক্যের ফলে নাসিরনগরে ধানের শীষের জয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। অন্যদিকে, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তার এই ঘোষণা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে।