প্রকাশিত:
৯ জানুয়ারী, ২০২৬

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সারা দেশে প্রচারণার মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। তবে প্রার্থীরা কেবল উন্নয়ন বা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছেন না, ভোটারদের মন জয় করতে মাঝেমধ্যে এমন সব ‘আজব’ ও ‘ধর্মীয় যুক্তি’ তুলে ধরছেন যা সাধারণ মানুষের মাঝে হাসির খোরাক জোগানোর পাশাপাশি জন্ম দিচ্ছে তীব্র বিতর্কের।
সম্প্রতি একটি নির্বাচনী পথসভায় এক স্থানীয় নেতার করা মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, “বিড়িতে সুখটান দিয়েও যদি দাঁড়িপাল্লায় ভোট চান বা ভোট দেন, তবে আল্লাহ হয়তো আপনাকে মাফ করে দিতে পারেন।”
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে ঝালকাঠির রাজাপুরে এক নির্বাচনি উঠান বৈঠকে ড. ফয়জুল হক এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তার নিজস্ব ফেসবুক পেজ থেকে প্রচারিত লাইভ ভিডিওটি বৃহস্পতিবার রাতে ভাইরাল হয়।
বক্তব্যে ফয়জুল হক বলেন, ‘বিড়ি যে দোকান থেকে খাবেন, সেখানে গিয়ে বিড়ি ধরিয়ে একটা সুখটান দিয়ে বলবেন—দেশের অবস্থা দেখছ? দাঁড়িপাল্লা ছাড়া তো আর মানুষ দেখি না। এমনও হতে পারে আমার কোনো ভাই হয়তো ইবাদত করার সুযোগ পায় নাই, কিন্তু ওই সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দেয় এবং তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাকে মাফ করে দিতে পারেন।’
অন্যদিকে নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিকেলে গল্প করার সময় বা চুলের বেণী বাঁধার সময় অবশ্যই ‘দাঁড়িপাল্লা’র কথা বলতে হবে। অন্তত ২০ জন আত্মীয়কে ফোন দিয়ে ভোট চাইতে তিনি মা-বোনদের অনুরোধ করেন।
বিষয়টি নিয়ে ওই নেতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছুটা রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, “আমি কেবল বোঝাতে চেয়েছি যে, মানুষ হিসেবে আমাদের ভুল থাকতে পারে, কিন্তু সঠিক প্রতীকে ভোট দেওয়াটা বড় একটা দায়িত্ব। কথাটি আমি রূপকার্থে বলেছি, এটাকে আক্ষরিক অর্থে নেওয়ার সুযোগ নেই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটারদের একটি বিশাল অংশ যখন ধর্মীয় বা আবেগীয় ইস্যু দ্বারা প্রভাবিত হয়, তখন প্রার্থীরা এমন ‘শর্টকাট’ যুক্তির আশ্রয় নেন। তবে বিড়ি বা সিগারেট খাওয়ার মতো ব্যক্তিগত অভ্যাসের সাথে জান্নাত-জাহান্নাম বা ক্ষমার বিষয়টি জুড়ে দেওয়াটা নির্বাচনী সংস্কৃতির চরম অবনতিকেই ইঙ্গিত করে।
উল্লেখ্য, ফয়জুল হক কায়েদ সাহেব হুজুরের নাতি হিসেবে এলাকায় পরিচিত এবং আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার এই অভিনব প্রচার কৌশল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।