প্রকাশিত:
১০ জানুয়ারী, ২০২৬

প্রশাসনের ভেতর থেকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের কিছু অংশ এখনো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অনুকূলে 'সিগন্যালিং' দিচ্ছে, যা সুষ্ঠু সংস্কার প্রক্রিয়ার জন্য বড় বাধা। আজ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ইইউর চিফ ইলেকশন অবজারভার আইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, "আমরা লক্ষ্য করছি যে, মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় দেখার জন্য বা তাদের পথ সুগম করার জন্য কাজ করছেন। বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক রদবদলের মাধ্যমে এমনভাবে 'সিগন্যাল' দেওয়া হচ্ছে যাতে মনে হয় ওই দলটিই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক।"
এ সময় এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেল প্রধান সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়াসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, ইইউ প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা ও উদ্বেগ জানতে আগ্রহী। তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চেয়েছে। একই সঙ্গে এনসিপিকেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইইউ।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে এমন আত্মবিশ্বাস বা ঐকমত্য সব রাজনৈতিক দলের নেই, এমনকি এনসিপিরও নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনিক পদায়ন এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ে কিছু সিদ্ধান্ত একটি নির্দিষ্ট বড় দলের অনুকূলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাহিদ ইসলামের এই মন্তব্য সেই গুঞ্জনকেই দালিলিক রূপ দিল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকার কোনো বিশেষ দলের স্বার্থ রক্ষা করতে আসেনি। যারা জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাইরে গিয়ে সিগন্যালিং দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।"
মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কিছু মূলধারার গণমাধ্যম এনসিপিকে লক্ষ্য করে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করছে। প্রশাসন ও মিডিয়ায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি এনসিপির।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নে নাহিদ ইসলাম বলেন, শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় মাঠে একটি নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। তবুও এনসিপি মাঠে কাজ চালিয়ে যাবে এবং ২১ তারিখের পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা আরও জোরদার করবে।
আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপির অবস্থান শিগগিরই স্পষ্ট হবে। আগামী ১১ বা ১২ তারিখের মধ্যে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
জামায়াত ও এনসিপির জোট নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অনেকখানি এগিয়ে রয়েছে এবং গণভোটের পক্ষে ইতিমধ্যে প্রচারণা শুরু হয়েছে। আসন সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে আর বড় কোনও চ্যালেঞ্জ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।