প্রকাশিত:
১২ জানুয়ারী, ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের নির্বাচনী সমীকরণ দ্রুত পাল্টাচ্ছে। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রবীণ রাজনীতিক বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঘোষণা করেছেন যে, এই নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিপক্ষ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং ব্যক্তি আহমেদ আযম খান।
রোববার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের কবি নজরুল সরণিতে নিজ বাসভবন ‘সোনার বাংলা’য় কাদের সিদ্দিকী এ কথা বলেন।
কাদের সিদ্দিকী তার অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, "আমি বিএনপির বিরুদ্ধে নই। বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। কিন্তু টাঙ্গাইল-৮ আসনে যিনি ধানের শীষ নিয়ে এসেছেন, সেই আহমেদ আযম খান আমার প্রধান প্রতিপক্ষ। তিনি মানুষের ওপর জুলুম করেছেন এবং সাধারণ মানুষকে জেলে পাঠিয়েছেন।"
কাদের সিদ্দিকীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে এটি পরিষ্কার যে, তিনি বিএনপির ভোট ব্যাংককে সরাসরি আক্রমণ না করে শুধুমাত্র প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজকে টার্গেট করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি সুকৌশলী চাল, যাতে বিএনপির সাধারণ সমর্থকদের সহানুভূতি আদায় করা যায়।
ভোটে অংশগ্রহণ না করার পরও তাঁর নিজ আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘যেহেতু ওখানে (সখীপুর-বাসাইল) আমাদের দলের জন্ম, সেহেতু একটা খেলা হলে অন্তত খেলা দেখতে যেতে হয়। আমরা সেই খেলা দেখতে গেলাম।’
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঘোষণা দেন যে, আহমেদ আযম খানকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে তিনি এবং তার দল এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছেন। তিনি সখীপুর ও বাসাইলের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা 'অত্যাচারী' নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেন।
কাদের সিদ্দিকীর এই অনড় অবস্থানের ফলে টাঙ্গাইল-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর জয়লাভ এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বঙ্গবীরের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং তার সমর্থক গোষ্ঠীর ভোট যদি স্বতন্ত্র প্রার্থীর দিকে চলে যায়, তবে ভোটের ফলাফল পাল্টে যেতে পারে।
অন্যদিকে, আহমেদ আযম খানের পক্ষ থেকে এখনও এই বক্তব্যের কোনো আনুষ্ঠানিক পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তার সমর্থকরা দাবি করছেন, দলের প্রতীক ও জনপ্রিয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই কাদের সিদ্দিকী এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন।
টাঙ্গাইল-৪ আসনে বড় ভাই আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া এবং তাঁকে সমর্থন দেওয়া প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘গত তিনবার শেখ হাসিনার আমলে মানুষ ভোট দিতে পারে নাই। এবার তার চাইতেও খারাপ হবে। সেই জিনিসটি দেখার জন্য আমি যাঁর কাছে রাজনীতি শিখেছি, তিনি আমার নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কালিহাতীতে ইলেকশন করার জন্য অনুরোধ করেছি। রাস্তাঘাটে জনসাধারণও তাঁকে অনুরোধ করেছেন। সে অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে উনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।’
বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাদের সিদ্দিকী ও তাঁর দলের অবস্থান নেওয়া প্রসঙ্গে সখীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘কাদের সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কোনো প্রভাব আমাদের প্রার্থীর ওপর পড়েবে না। এ ব্যাপারে আমরা উদ্বিগ্ন নই।’
টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী সবসময়ই একজন 'ফ্যাক্টর'। বিএনপিকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি আযম খানকে টার্গেট করার এই কৌশল আসন্ন নির্বাচনে একটি বড় মেরুকরণ ঘটাতে পারে। এখন দেখার বিষয়, সাধারণ ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী করেন।