প্রকাশিত:
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

৩৪ বছর বয়সী নেইমার বর্তমানে খেলছেন নিজের পুরনো ক্লাব সান্তোসের হয়ে। ক্লাবটির সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। চুক্তি শেষে ভবিষ্যৎ কী—এমন প্রশ্নের জবাবে নেইমার বলেন, "এখন থেকে কী হবে, আমি জানি না। সম্ভবত ডিসেম্বর এলে অবসর নিতে চাইব। এখন আমি বছর ধরে এগোচ্ছি। দেখা যাক আমার মন কী সিদ্ধান্ত নেয়। বছরের শেষ দিকে মন যা বলবে, সেটির ওপরই সব নির্ভর করছে।"
২০০৯ সালে ১৭ বছর বয়সে সান্তোসের জার্সিতেই নেইমারের পেশাদার যাত্রা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি বার্সেলোনা ও পিএসজির মতো ক্লাবে দাপিয়ে বেড়ালেও শেষ কয়েক বছর কেটেছে চোটের মিছিলে।
২০২৩ অক্টোবর: সর্বশেষ জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন।
২০২৪ জানুয়ারি: আল হিলাল ছেড়ে সান্তোসে যোগ দিলেও চোটের কারণে মৌসুমের শুরুতে খেলতে পারেননি।
২০২৪ ডিসেম্বর: হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করান।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬: গত সপ্তাহে ভেলো ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে দুই মাস পর মাঠে ফেরেন।
নেইমারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ২০২৬ বিশ্বকাপ। তবে ব্রাজিল দলে তার জায়গা পাওয়া নিয়ে সংশয় কাটছে না। জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি দরজা খোলা রাখলেও শর্ত দিয়েছেন 'পূর্ণ ফিটনেস'। নেইমার নিজেও মানছেন এটি একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে ব্রাজিলের গ্রুপে রয়েছে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড।
নেইমার বলেন, "এই বছরটা আমার জন্য, সান্তোসের জন্য এবং জাতীয় দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি এই মৌসুমে শতভাগ খেলতে চাই।"
নেইমার যদি সত্যিই ডিসেম্বরে বুট তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেন, তবে ফুটবল হারাবে তার অন্যতম সেরা জাদুকরকে।
নেইমার ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করে ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা।
বার্সেলোনার হয়ে ট্রেবল জয় (চ্যাম্পিয়নস লিগ ও লা লিগা), পিএসজির হয়ে একাধিক লিগ শিরোপা।
গত বছর ক্লাবটিকে দ্বিতীয় বিভাগে অবনমন থেকে বাঁচাতে চোট নিয়েই খেলেছেন এবং সফল হয়েছেন।
ভক্তদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—শেষ বেলায় কি নেইমারকে আবার সেই চিরচেনা ছন্দে হলুদ জার্সিতে দেখা যাবে, নাকি ইনজুরিই জয়ী হবে এই মহাতারকার বিপক্ষে?