প্রকাশিত:
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সূচনালগ্ন থেকে বিবর্তনস্বাধীন বাংলাদেশের এই মন্ত্রণালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি। প্রথম মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। এরপর থেকে সামরিক শাসন, গণতান্ত্রিক ধারা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতিটি স্তরে এই মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এসেছে আমূল পরিবর্তন।
মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘ পথচলায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু পর্যায় হলো:
তত্ত্বাবধায়ক ও অন্তর্বর্তীকালীন: বিভিন্ন সময়ে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আবুল ফজল, আলমগীর এম. এ. কবীর, সি এম শফি সামি, এবং অতি সম্প্রতি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া ও ড. আসিফ নজরুল।
গণতান্ত্রিক ও দলীয় শাসন: প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ওবায়দুল কাদের, মির্জা আব্বাস, সাদেক হোসেন খোকা, ফজলুর রহমান পটল এবং জাহিদ আহসান রাসেলদের মতো হেভিওয়েট নেতারা বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালে একসঙ্গে দুইজন প্রতিমন্ত্রী ও একজন উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ঘটনা ছিল এই মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসের এক ব্যতিক্রমী অধ্যায়।
পূর্ণ মন্ত্রী: নাজমুল হাসান পাপনের মতো ব্যক্তিত্বরা এখানে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
এক নজরে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাইলফলক
১৯৭২ মোহাম্মদ ইউসুফ আলী (প্রথম মন্ত্রী)
এরশাদ আমল এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, নিতাই রায় চৌধুরী প্রমুখ
নব্বইয়ের দশক মির্জা আব্বাস, সাদেক হোসেন খোকা, ওবায়দুল কাদের
১/১১ সরকার সি এম শফি সামি, তপন চৌধুরী, মাহবুব জামিল
২০০৯-২০২৪আহাদ আলী সরকার, বীরেন শিকদার, জাহিদ আহসান রাসেল, নাজমুল হাসান পাপন
রাষ্ট্রের পথচলার সঙ্গে সঙ্গে নেতৃত্ব বারবার বদলেছে। প্রতিটি সরকারের আমলে নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও ক্রীড়ামোদীদের আক্ষেপ—বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন যেন আজও প্রস্তুতির প্রাথমিক স্তরেই থমকে আছে। নেতৃত্বের এই দীর্ঘ ধারাবাহিকতা দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের দলিল হয়ে থাকলেও, তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়া উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছানোর স্বপ্ন আজও অপূর্ণই রয়ে গেছে।আজকের নতুন মন্ত্রী কি পারবেন দেশের ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণ সঞ্চার করতে? উত্তরের অপেক্ষায় পুরো দেশ।