প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

গতকালই চলে গিয়েছেন আরেক ক্রীড়াবিদ মোস্তফা কামাল। সেই শোকের ছায়া কাটতে না কাটতেই রণজিৎ দাসের প্রয়াণ দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদয়ে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করল।
রণজিৎ দাস ছিলেন সেই বিরল প্রতিভা, যিনি একই সাথে ফুটবল ও হকি—উভয় মাঠেই ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
১৯৫৫ সালে ইস্পাহানি ক্লাবের হয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। এরপর আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের সেই ঐতিহাসিক সময়, যখন ১৯৫৮ সালে তাঁর অধিনায়কত্বেই দলটি লিগ শিরোপা জেতে।
মোহামেডানের জার্সিতেও তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ১৯৫৭ সালে কলকাতা মোহামেডানের হয়ে ‘অল ইন্ডিয়া ডুরান্ড কাপে’ অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
কেবল ফুটবল নয়, ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তান হকি দলের অধিনায়ক হিসেবেও দাপটের সাথে খেলেছেন তিনি।
খেলা ছাড়ার পর ফুটবল কোচ হিসেবেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি, দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলেছেন প্রিয় ক্লাব আজাদের।
পূর্ব পাকিস্তান ফুটবল দলের গোলপোস্ট নিষ্ঠার সাথে সামলালেও পাকিস্তান জাতীয় দলে তাঁর সুযোগ হয়নি। ১৯৩২ সালে জন্ম নেওয়া এই তারকার উচ্চতা কিছুটা কম হওয়ার কারণে জাতীয় দলে ডাক না পাওয়াটা ছিল তাঁর জীবনের এক নীরব দীর্ঘশ্বাস। নিজেই বলতেন, "উচ্চতা কম ছিল বলেই হয়তো হলো না।"
তবে ২০০৬ সালে প্রথম আলো ক্রীড়া পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা তাঁর সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে দিয়েছিল। এর পরের বছরই তিনি ভূষিত হন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে।
সিলেটের করের পাড়ায় রণজিৎ দাসের বাড়ি ‘কমলাকান্ত ভবন’ ছিল ক্রীড়া অনুরাগী মানুষের মিলনমেলা। শেষ কয়েক বছর স্মৃতিভ্রংশ হয়ে অনেকটা নির্বাক হয়ে গিয়েছিলেন এই কিংবদন্তি। স্ত্রী রেখা দাসই ছিলেন তাঁর শেষ বয়সের প্রধান অবলম্বন।
জহিরুল হক এবং জাকারিয়া পিন্টুর পর রণজিৎ দাসের প্রয়াণে দেশের ফুটবলের সেই আদি গৌরবময় অধ্যায়ের শেষ প্রদীপটি যেন নিভে গেল। সিলেটের সেই পাহাড়ি রাস্তার ঢালে এখন আর কেউ তাঁর সেই ‘টেলিগ্রাম যুগের’ রোমাঞ্চকর গল্প শোনার জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে না। কিন্তু দেশের ফুটবল ও হকির ইতিহাসে তাঁর বীরত্বগাথা লেখা থাকবে চিরকাল।