প্রকাশিত:
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাজমুল হোসেন এবং ফুটবলার শেখ মোরছালিন উভয়েই মাঠ ও সুযোগ-সুবিধার ওপর জোর দিয়েছেন। মোরছালিন বলেন, "হাতে গোনা দু-একটি মাঠ বাদে বাকিগুলোর অবস্থা নাজুক। মানসম্মত মাঠ ছাড়া আন্তর্জাতিক সাফল্য অসম্ভব।" অন্যদিকে নাজমুল হোসেনের মতে, সেরা পারফরম্যান্সের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও অনুশীলনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত।
দাবাড়ু ফাহাদ রহমান সরাসরি ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "ফেডারেশনগুলোর দুর্নীতি বন্ধ হলে বাজেটের সঠিক বাস্তবায়ন হবে এবং পৃষ্ঠপোষক পাওয়া সহজ হবে।" ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার চান স্বল্পমেয়াদি প্রস্তুতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা। তিনি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম ও খেলোয়াড়দের উন্নত আবাসনের দাবি জানান।
খেলোয়াড়দের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম ‘ক্যারিয়ার পরবর্তী জীবন’। নাজমুল হোসেন বলেন, "৩৫-৩৬ বছর বয়সে অন্য পেশার মানুষের আয় বাড়ে, কিন্তু খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়। এই অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে।" হকি খেলোয়াড় আমিরুল ইসলাম দাবি তুলেছেন:
জাতীয় ও জুনিয়র পর্যায়ের খেলোয়াড়দের সরাসরি সরকারি বেতনের আওতায় আনা।
দৈনিক ও আন্তর্জাতিক ভাতা বৃদ্ধি করা।
বিকেএসপি থেকে বের হওয়া খেলোয়াড়দের ঝরে পড়া রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
হকি ও ফুটবলারদের দাবি, ঘরোয়া প্রিমিয়ার লিগ ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নিয়মিত আয়োজন বাধ্যতামূলক করতে হবে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে ফেডারেশনগুলোর বাৎসরিক ক্যালেন্ডার তদারকি করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। দাবাড়ু ফাহাদ রহমান আক্ষেপ করে জানান, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে পুরস্কারের অর্থ এতটাই নগণ্য যে খেলোয়াড়রা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ও সরকারের কাছে খেলোয়াড়দের অভিন্ন চাওয়া—ক্রীড়াঙ্গনকে কেবল শখের বশে নয়, একটি লাভজনক ও নিরাপদ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘খেলার গৌরবে উজ্জ্বল দেশ’ গড়তে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা দেশের ক্রীড়া তারকাদের।