প্রকাশিত:
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

আন্তর্জাতিক প্রাণী কল্যাণ ও সংরক্ষণ কোয়ালিশন (আইএডব্লিউপিসি) জানিয়েছে, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে মরক্কো প্রায় ৩০ লাখ কুকুর হত্যার পরিকল্পনা করছে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব কুকুর মারতে বিষ প্রয়োগ, সরাসরি গুলি এবং এমনকি জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মতো নৃশংস পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে। মূলত রাস্তার প্রাণীদের সরিয়ে শহরকে বাহ্যিকভাবে পরিপাটি দেখানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মরক্কো সরকার অবশ্য সব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে। লন্ডনে মরক্কো দূতাবাসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে:
দেশটিতে কোনো ‘নিধন কার্যক্রম’ চলছে না।
২০১৯ সাল থেকে তারা টিএনভিআর (ধরো, বন্ধ্যত্ব করাও, টিকা দাও ও ছেড়ে দাও) কর্মসূচি চালাচ্ছে।
এই প্রকল্পের আধুনিক ক্লিনিক স্থাপনে তারা ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছে।
সরকারি দাবিকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে আইএডব্লিউপিসির পরিচালক লেস ওয়ার্ড বলেন, রাতের অন্ধকারে রাইফেল নিয়ে কুকুর গুলি করার ঘটনা ঘটছে। এমনকি যেসব কুকুরের কানে ট্যাগ লাগানো (বন্ধ্যত্ব করা) আছে, তাদেরও রেহাই দেওয়া হচ্ছে না। হলিউড অভিনেতা মার্ক রাফালো এই ঘটনাকে ‘নৈতিক ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মরক্কোর আইনে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা গেছে:
প্রাণী নির্যাতন করলে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
আবার যারা রাস্তার প্রাণীকে খাবার বা আশ্রয় দেয়, তাদের জন্যও জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গণহারে কুকুর নিধন করলে জলাতঙ্ক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে, কুকুর মেরে ফেলা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়, বরং তাদের টিকা দিয়ে এলাকাতেই রাখা নিরাপদ। মরক্কোতে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ মানুষ কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হন এবং ৩৩ জন জলাতঙ্কে মারা যান।
ইতিমধ্যেই ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থা মরক্কো সরকারকে খোলা চিঠি দিয়ে এই নিষ্ঠুরতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে। ফিফা বা অন্য আয়োজক দেশগুলো এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেখায় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।