প্রকাশিত:
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

রান তাড়া করতে নেমে নেপালকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন ওপেনার কুশল ভুর্তেল। ৪৩ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলে তিনি স্কটিশ বোলারদের শুরুতেই ব্যাকফুটে ঠেলে দেন। আসিফ শেখের (৩৩) সঙ্গে তাঁর উদ্বোধনী জুটি রান তাড়ার ভিত গড়ে দেয়।
মাঝপথে অধিনায়ক রোহিত পাউডেল দ্রুত বিদায় নিলে কিছুটা চাপে পড়েছিল নেপাল। কিন্তু সেই চাপ তুড়িতে উড়িয়ে দেন দীপেন্দ্র সিং আইরি। মাত্র ২৩ বলে ঝোড়ো অর্ধশতক পূর্ণ করে তিনি মাঠের চারদিকে চার-ছক্কার বৃষ্টি নামান। ৩টি ছক্কা ও ৪টি চারের সাহায্যে অপরাজিত ইনিংস খেলে তিনি নেপালকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান। চতুর্থ উইকেটে গুলসান ঝার (অপরাজিত ২৪) সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৭৩ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়েন আইরি।
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭০ রান সংগ্রহ করে স্কটল্যান্ড। মাইকেল জোন্স একাই লড়াই চালিয়ে দলের মেরুদণ্ড হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন। ৮টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংসটি স্কটল্যান্ডকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখায়। জর্জ মুন্সিকে সঙ্গে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৮০ রান যোগ করলেও নেপালের অভিজ্ঞ বোলার সোমপাল কামির তোপে শেষ দিকে রানের গতি কমে যায়। কামি মাত্র ২৫ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করে স্কটিশদের লাগাম টেনে ধরেন।
২০১৪ সালে নেদারল্যান্ডস ও আফগানিস্তানকে হারানোর পর দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বকাপে জয়ের মুখ দেখেনি নেপাল। মাঝপথে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আসা দলটি গতকাল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে যেন তাদের পুনর্জন্ম ঘোষণা করল। স্কটল্যান্ডের ফিল্ডারদের কিছু ক্যাচ মিস ও ফিল্ডিংয়ের ভুল নেপালের কাজকে আরও সহজ করে দেয়।
এই জয়ে গ্রুপ ‘সি’-তে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে এল নেপাল। দলের এমন পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত সমর্থকেরা এখন সুপার এইটের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। ম্যাচের নায়ক দীপেন্দ্র সিং আইরির বিধ্বংসী ব্যাটিং নিশ্চিতভাবেই টুর্নামেন্টের বাকি দলগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে।