প্রকাশিত:
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

গত দেড় বছর ভিনিসিউসের নিজের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং ছিল, তার চেয়েও কঠিন সময় পার করেছেন রোনাল্ড আরাউহো। পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র সমালোচনা এবং অনলাইন হ্যারাসমেন্টের কারণে উরুগুয়ান এই ডিফেন্ডার চরম মানসিক চাপে ভুগেছিলেন। এমনকি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ২০২৩ সালের শেষ দিকে তিনি ফুটবল থেকে সাময়িক বিরতি নিতে বাধ্য হন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম আএস (AS) জানিয়েছে, আরাউহোর এই গভীর সংকটের সময়ে ক্লাব ফুটবলের শত্রুতা ভুলে তাকে ফোন করেছিলেন ভিনিসিউস। ফোনের ওপাশে কেবল একজন ফুটবলার নয়, বরং একজন বন্ধু হিসেবে আরাউহোকে সাহস জুগিয়েছেন তিনি।
আরাউহো সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া সত্ত্বেও ভিনিসিউসের সেই ফোন কলটি ছিল আমার জন্য সবচেয়ে বড় সমর্থন। সে একজন মানুষ হিসেবে আমার প্রতি যে উদ্বেগ দেখিয়েছে, তা আমি কখনোই ভুলব না।"
ভিনিসিউসের সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত। যদিও নতুন চুক্তি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি এবং সৌদি প্রো লিগ থেকে ১০০ কোটি ইউরোর বিশাল প্রস্তাবের গুঞ্জন রয়েছে, তবে ভিনিসিউস স্পষ্ট জানিয়েছেন— তিনি মাদ্রিদেই সুখী। সম্প্রতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইবাই ইয়ানোসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি বিশ্বের সেরা ক্লাবে খেলছি এবং আমার পরিবার এখানে সুখে আছে। এটাই আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।"
কিলিয়ান এমবাপ্পে রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর ভিনিসিউসের গুরুত্ব কমবে বলে যে আশঙ্কা ছিল, তা এক চুটকিতে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। ভিনিসিউস প্রকাশ করেছেন এক মজার তথ্য— এমবাপ্পে ও বেলিংহামকে মাদ্রিদে আনতে তিনি নিজেই ‘এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করেছেন! প্রতি গ্রীষ্মেই এমবাপ্পেকে মেসেজ দিয়ে তিনি জিজ্ঞেস করতেন, "তুমি কবে আসছো?" রিয়ালে এখন তারা কেবল সতীর্থই নন, বরং এক নিবিড় পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ।
অল্প বয়সে তারকাখ্যাতি পাওয়ার নেতিবাচক দিকগুলো নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। তিনি মনে করেন, প্রতিপক্ষ সমর্থকদের দুয়োধ্বনি বা শিস তাকে দমানোর বদলে আরও উজ্জীবিত করে। চাপের মুহূর্তেই তিনি নিজের সেরাটা দিতে পছন্দ করেন।
ভিনিসিউস জুনিয়র প্রমাণ করেছেন যে, এল ক্লাসিকোর মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লড়াইও মানবিক মূল্যবোধের উর্ধ্বে নয়। মাঠের ভেতরে তিনি যেমন আক্রমণভাগের আতঙ্ক, মাঠের বাইরে তেমনই এক সহমর্মী সতীর্থ— যা বর্তমান ফুটবল বিশ্বে এক অনন্য উদাহরণ।