প্রকাশিত:
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

১৯৯২ সালে প্রথম পাঁচ ম্যাচের পর খাদের কিনারে থাকা পাকিস্তানকে ইমরান খান দিয়েছিলেন ‘আহত বাঘ’-এর তকমা। এরপর অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেমিফাইনাল এবং শেষে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া—সে ছিল এক রূপকথা। কিন্তু ২০২৬-এর এই পাকিস্তান দল যেন সেই তেজ হারিয়ে নখদন্তহীন ঝিমিয়ে পড়া এক প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। ব্যাটিং স্তম্ভ বাবর আজম কিংবা গতির ঝড় তোলা শাহিন শাহ আফ্রিদি—সবাই এখন যেন নিজেদের ছায়া হয়ে আছেন।
কাগজে-কলমে নামিবিয়ার চেয়ে পাকিস্তান অনেক এগিয়ে। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান ও বোলার থাকলেও নামিবিয়ার সেরা খেলোয়াড় গেরহার্ড এরাসমাস আছেন ৪৯তম স্থানে। বোলিংয়েও নামিবিয়ার সেরা বোলার বার্নার্ড শলৎজের অবস্থান ৭৯ নম্বরে। পরিসংখ্যান পাকিস্তানের পক্ষে কথা বললেও দুশ্চিন্তার কারণ তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স।
এবারের বিশ্বকাপে প্রথম দুটি ম্যাচে পাকিস্তান জিতলেও তাতে ছিল না কোনো আধিপত্য। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারতে হারতে মাত্র ৩ উইকেট ও ৩ বল হাতে রেখে জিতেছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৩২ রানে জিতলেও ফিফটি এসেছে কেবল সাহিবজাদা ফারহানের ব্যাট থেকে। এরপর ভারতের কাছে ১৭৫ রান তাড়া করতে নেমে ৬১ রানের বিশাল হার দলের আত্মবিশ্বাসকে তলানিতে নিয়ে ঠেকিয়েছে।
ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর দলের মনোবল ফেরাতে কোচিং স্টাফরা জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। অফ স্পিনার উসমান তারিক গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ভুল নিয়ে আমরা কাজ করেছি। কাজটা কঠিন হবে না যদি আমরা আগের ম্যাচের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিই। আমরা এই ম্যাচের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।”
আজকের ম্যাচটি কেবল সুপার এইটে ওঠার লড়াই নয়, বরং পাকিস্তান ক্রিকেটের হৃত গৌরব এবং ‘আহত বাঘের’ সেই তেজ ফিরিয়ে আনারও এক পরীক্ষা। নামিবিয়া কি পারবে বড় কোনো অঘটন ঘটাতে, নাকি বাবর আজমরা জয়ে ফিরবেন—সেদিকেই তাকিয়ে ক্রিকেট বিশ্ব।