প্রকাশিত:
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

তিনি শাহবাজ আলী—বাংলাদেশের হকি আম্পায়ারিংয়ের এক জীবন্ত বিস্ময়। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন (এফআইএইচ) থেকে এক বিরল সুসংবাদ পেয়েছেন তিনি। শাহবাজকে প্রাথমিক আন্তর্জাতিক প্যানেল থেকে সরাসরি ‘হাই পটেনশিয়াল প্যানেলে’ উন্নীত করা হয়েছে।
শাহবাজের এই অর্জনের মাহাত্ম্য অনুধাবন করা যায় একটি পরিসংখ্যানেই—সারা বিশ্বের মাত্র ১২ জন আম্পায়ার এই বিশেষ প্যানেলভুক্ত। আরও বিস্ময়কর হলো, পুরো এশিয়া মহাদেশ থেকে শাহবাজ আলীই এখন এই তালিকার একমাত্র প্রতিনিধি। এর ফলে এখন থেকে তিনি হকির প্রো-লিগ, অলিম্পিক, বিশ্বকাপ এবং কমনওয়েলথ গেমসের মতো সর্বোচ্চ স্তরের ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাবেন।
এফআইএইচের নিয়ম অনুযায়ী, পরপর দুটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অন্তত ৮০ নম্বর পেলে একজন আম্পায়ার পরবর্তী প্যানেলে পদোন্নতি পান। শাহবাজ এই কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এই গৌরব অর্জন করেন। এর আগে গত ডিসেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিত জুনিয়র হকি বিশ্বকাপেও তিনি সফলভাবে আম্পায়ারিং করেছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শাহবাজের অর্জন আকাশচুম্বী হলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক সংগ্রামের নাম। বড় ভাই ও সাবেক হকি খেলোয়াড় শাহেনশাহ আলীর দোকানে বই-খাতা বিক্রি এবং কম্পোজের কাজ করেই চলে তাঁর জীবন। বড় কোনো সংস্থায় স্থায়ী চাকরি জোটেনি তাঁর। শাহবাজের ভাষায়, "অনেক জায়গায় চেষ্টা করেছি, কিন্তু আম্পায়ারিংয়ের জন্য ছুটির ব্যবস্থা না থাকায় চাকরি হয়নি। কী করব, জীবন চালাতে একটা কিছু তো করা লাগবে। এই সরকার যেন আমাদের মতো আম্পায়ার-রেফারিদের দিকে একটু সুনজর দেয়।"
বর্তমানে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক আম্পায়ার আছেন মাত্র দুজন—সেলিম লাকি ও শাহবাজ আলী। শাহবাজের দুচোখে এখন একটাই স্বপ্ন, ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা। এশিয়ান হকি ফেডারেশনের বিশেষ প্রকল্পের অধীনে তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।
শাহবাজ বলেন, "বাংলাদেশের কোনো আম্পায়ার এর আগে অলিম্পিকে গেছেন কি না আমার জানা নেই। আমি যদি যেতে পারি, তবে সেটা দেশের জন্যই হবে এক বিশাল প্রাপ্তি।"
বাংলাদেশের হকিতে যখন মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে নানা বিতর্ক ও দুর্দিন চলছে, তখন আরমানিটোলার এই সাধারণ যুবক শাহবাজ আলী হয়ে উঠেছেন এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। তাঁর বাঁশি এখন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জয়গান গাওয়ার অপেক্ষায়।