প্রকাশিত:
৮ জানুয়ারী, ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে আলোচনা এখন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে। ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন সম্ভব কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানতে বিসিবির ওপর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আইসিসি। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শনিবারের মধ্যেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।
মঙ্গলবার গভীর রাতে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে আইসিসির প্রতিনিধিরা বিসিবিকে জানান, টুর্নামেন্ট চলাকালীন বাংলাদেশ দলের জন্য নির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা হুমকির তথ্য তাদের কাছে নেই। ফলে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া মাসব্যাপী এই আসরের সূচি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখছে না আইসিসি।
বৈঠক শেষে বিসিবি জানায়, বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইসিসি সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। একই সঙ্গে তারা টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিসিবির মতামত ও সুপারিশ গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।
তবে একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে বিসিবিকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, মেম্বার্স প্লেয়িং অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী নির্ধারিত ভেন্যুতেই খেলতে বাধ্য সদস্য দেশগুলো। এই চুক্তি অমান্য করলে পয়েন্ট হারানোর মতো শাস্তির ঝুঁকিও রয়েছে। যদিও বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো চাপ বা আলটিমেটামের কথা অস্বীকার করেছে।
এদিকে বুধবার ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে আইসিসিকে আবারও অনুরোধ করা হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব এখনও আলোচনায় রয়েছে।
আইসিসির চিঠি পাওয়ার পরপরই বিসিবি পরিচালকদের সাথে বৈঠক করেন আসিফ নজরুল। বৈঠক শেষে জানানো হয়, বর্তমান ভারতীয় পরিবেশে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, এই বার্তাই পুনরায় আইসিসির কাছে তুলে ধরা হবে।
বিসিবির বিবৃতিতে বলা হয়, আইসিসি বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ ও নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিসিবির মতামত অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। বোর্ড স্পষ্ট করেছে, আইসিসির পক্ষ থেকে পয়েন্ট কেটে নেওয়ার কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, উদ্বেগ কেবল খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ঘিরেই নয়, দলের সাথে ভ্রমণকারী মিডিয়া প্রতিনিধি, স্পনসর ও দর্শকদের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে বিসিবি কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।
এই সংকটের সূচনা হয় আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর। বিসিসিআইয়ের নির্দেশনায় নেওয়া ওই সিদ্ধান্তের পরই বিসিবি জরুরি বৈঠক ডেকে আইসিসির কাছে ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন জানায়।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের চারটি গ্রুপ ম্যাচের মধ্যে তিনটি কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে এবং একটি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি।
আইসিসি চায়, দ্রুত এই জটিলতার সমাধান হোক, যাতে শেষ মুহূর্তে লজিস্টিক ও সাংগঠনিক সংকট তৈরি না হয়।