প্রকাশিত:
গতকাল

লিবিয়ার অ্যান্টি-ইলিগ্যাল ইমিগ্রেশন এজেন্সির শাহাত শাখা নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আমসেইদ সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে বাংলাদেশের ১১০ জন অবৈধ অভিবাসীকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে আরও ২৬ জন কাগজপত্রবিহীন মিশরীয় অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। লিবিয়া সরকারের ওয়েবসাইট লানা এ খবর দিয়েছে।
লিবীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ফেরত পাঠানো এই ১১০ জন অভিবাসী দেশটির দেরনা (Derna) এবং বেনগাজি শাখার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। তারা মূলত পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে সমুদ্রপথে ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। উপকূলরক্ষী বাহিনীর অভিযানে আটকের পর তাদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ‘অ্যান্টি-ইলিগ্যাল ইমিগ্রেশন এজেন্সি’র বেনগাজি শাখায় স্থানান্তর করা হয়।
লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) যৌথ প্রচেষ্টায় এই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত হয়েছে।অভিবাসীদের বেনগাজির বেনিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, আটককৃতদের পরিচয় যাচাই ও ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করার পর দ্রুততম সময়ে তাদের দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দেশে ফেরা অভিবাসীদের অনেকের চোখেমুখে ছিল দীর্ঘ দিনের বন্দিদশা আর স্বপ্নভঙ্গের ছাপ। আইওএম-এর পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে:
"পাচারকারীরা উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের মরুভূমি ও সমুদ্রের ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিয়েছিল। লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে দিনের পর দিন অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটাতে হয়েছে।"
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর এই অভিবাসীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া আইওএম-এর পক্ষ থেকে প্রত্যেককে যাতায়াত খরচ বাবদ নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকার ও আইওএম বারবার অনুরোধ জানিয়েছে যেন কেউ দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধ পথে বিদেশ না যান।
লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে এখনও অনেক বাংলাদেশি নাগরিক আটকা পড়ে আছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, লিবিয়া সরকারের সহযোগিতায় পর্যায়ক্রমে তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও কয়েকটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।