প্রকাশিত:
গতকাল

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে আশাব্যঞ্জক তথ্য দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. মাছউদ আলম। তিনি জানিয়েছেন, ৫ আগস্ট ও তার পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের সিংহভাগই ইতিমধ্যে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে নীলফামারী সরকারি কলেজের হলরুমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট গ্রহণকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি মাছউদ জানান, গত কয়েক মাস ধরে সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি বলেন:
"পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী থেকে যেসব আধুনিক অস্ত্র লুট হয়েছিল, তার অধিকাংশ আমাদের হেফাজতে চলে এসেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা প্রায় প্রতিটি জেলাতেই সফল অভিযান চালিয়েছি। এখন আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তাতে বাকি অস্ত্রের পরিমাণ খুবই সামান্য এবং সেগুলো উদ্ধারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, পোস্টাল ব্যালট সিস্টেম নতুন। তাই এখানে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে কাউকে এক বিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশনের ওপর প্রশ্ন আছে, এমন কাজ কখনও করা হবে না। সে ব্যাপারে আমরা সর্তক রয়েছি।
নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইসি মাছউদ বলেন, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের ফলে নির্বাচনের দিন বড় ধরনের নাশকতার ঝুঁকি অনেকটাই কমে এসেছে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে কমিশন।
ইসি মাছউদ তার বক্তব্যে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "নির্বাচনী প্রচার বা ভোটের দিন যদি কেউ কোনো ধরনের অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন বা ব্যবহার করার চেষ্টা করে, তবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আইনের আওতায় আনা হবে। এক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।"
নীলফামারী জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং অফিসার মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপিরচালক সাইদুল ইসলাম, রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, নীলফামারী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফুল কবির।
লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের এই খবর নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার পথে একটি বড় মাইলফলক। এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নির্বাচনের দিনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একই ধরনের তৎপরতা বজায় রাখবে।