প্রকাশিত:
গতকাল

শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর উত্তর-পশ্চিম উপকণ্ঠে একটি আবাসিক ভবনে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভ্লাদিমির আলেক্সেয়েভ। হামলার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং হামলাকারী বা এর পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়নি। খবর বিবিসির।
রুশ গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, জেনারেল আলেক্সেইভ মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ভোলোকোলামস্ক হাইওয়ের একটি অভিজাত আবাসিক ব্লকে বাস করেন। আজ সকালে তিনি যখন তার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন ভবনের প্রবেশপথের সিঁড়িতে এক অজ্ঞাতপরিচয় ঘাতক তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারী একজন ‘ফুড ডেলিভারি ম্যান’-এর পোশাকে ছদ্মবেশে ভবনে প্রবেশ করেছিল যাতে নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়ানো যায়।
জেনারেল আলেক্সেইভের পিঠে অন্তত দুটি গুলি লেগেছে বলে জানা গেছে। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মস্কোর একটি সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে, তবে রক্তক্ষরণ বেশি হওয়ায় তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এই ঘটনার প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট দেওয়া হচ্ছে।
আলেক্সেয়েভ রাশিয়ার সামরিক জেনারেল স্টাফের প্রধান গোয়েন্দা অধিদপ্তর জিআরইউর বা ‘গ্রু’র একজন শীর্ষ কর্মকর্তা। প্রায় চার বছর আগে ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রার আক্রমণের পর মস্কোতে হামলার শিকার হওয়া তিনিই সর্বশেষ উচ্চপদস্থ সামরিক ব্যক্তি।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল আলেক্সেয়েভ ইউক্রেন যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০২২ সালে মারিউপোল অবরোধের সময় তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। ২০২৩ সালের জুনে ওয়াগনার ভাড়াটে বাহিনীর প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিনের নেতৃত্বে সংঘটিত স্বল্পস্থায়ী রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহের সময় প্রিগোজিনের সঙ্গে আলোচনার জন্য তাকেই পাঠানো হয়েছিল।
এর আগে, ২০২৪ সালে মস্কোর একটি ফ্ল্যাটের বাইরে বিস্ফোরণে রাশিয়ার পারমাণবিক, জৈবিক ও রাসায়নিক সুরক্ষা বাহিনীর দায়িত্বে থাকা জেনারেল ইগর কিরিলোভ নিহত হন। ওই ঘটনায় জানুয়ারিতে একজন উজবেক নাগরিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ইউক্রেনের এসবিইউ গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, ওই হামলার পেছনে তাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল।
মস্কোতে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাগুলো রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এই হামলার পর পুরো মস্কো শহরজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হামলাকারীকে ধরতে পুলিশ চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে এবং আবাসিক ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনীয় বা বিরোধী কোনো গোষ্ঠীর ‘স্লিপার সেল’ এই হামলার পেছনে কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে এফএসবি (FSB)।