প্রকাশিত:
১ ঘন্টা আগে

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট-বিওপি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭৯৩ কোটি ৭০ লাখ (৭.৯৩ বিলিয়ন) ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছেন দুই হাজার ৭৫৯ কোটি ৪০ লাখ (২৭ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন) ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই পাঁচ মাসে আমদানি হয়েছিল ২৬.০১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১৮ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার।
আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানের কারণেই চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এই বিশাল পরিমাণ বাণিজ্য ঘাটতি সরাসরি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আমদানির দায় মেটাতে ব্যাংকগুলোর কাছে নিয়মিত ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে, যার ফলে গ্রস রিজার্ভের স্থিতিতে টান পড়ছে। গত পাঁচ মাসে রিজার্ভ থেকে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার বাজারে ছাড়া হয়েছে।
পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা খাতেও (বিমা, ভ্রমণ, পরিবহন ইত্যাদি) বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সেবা খাতের আমদানি ব্যয় যে হারে বাড়ছে, সেই তুলনায় আয় না হওয়ায় সামগ্রিক কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স বা চলতি হিসাবের ভারসাম্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদদের মতে, বাণিজ্য ঘাটতি ৯৪০ কোটি ডলারে পৌঁছানো অর্থনীতির জন্য একটি ‘অ্যালার্মিং’ বা সতর্ক সংকেত। তারা মনে করেন, যদি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আশানুরূপভাবে না বাড়ে, তবে ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও কমে যেতে পারে। এতে করে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) বাড়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুলাই-নভেম্বর ৪০ কোটি ডলারের এফডিআই পেয়েছিল বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে ৬৫ কোটি ডলারে উঠেছে।
তবে আলোচিত দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) নেতিবাচক অবস্থায় নেমেছে। অর্থবছরে প্রথম পাঁচ মাসে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (নিট) যা এসেছিল তার চেয়ে প্রায় ৭ কোটি ডলার চলে গেছে। তার আগের অর্থবছরের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল (ঋণাত্মক) ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিলাসদ্রব্য আমদানিতে এলসি (LC) খোলার শর্ত আরও কঠোর করার কথা ভাবছে। একই সাথে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে প্রণোদনার হার পুনর্মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।