প্রকাশিত:
২ ঘন্টা আগে

নতুন সরকার তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার অনুযায়ী এই তিনটি কাঠামোর যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবে:
১. ব্যয় সাশ্রয়ী মডেল (৮.২৫ লাখ কোটি টাকা): মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই ছোট আকারের বাজেটের পক্ষে মত দিয়েছে অর্থ বিভাগ।
২. রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী মডেল (৮.৭৫ লাখ কোটি টাকা): প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বড় বিনিয়োগের লক্ষ্য থাকলে এই মডেলটি কার্যকর হবে।
৩. মধ্যমপন্থী মডেল (৮.৫০ লাখ কোটি টাকা): ব্যয় সংকোচন ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় এই আকার নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূস বাজেট প্রণয়নে কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন:
স্বনির্ভর অর্থায়ন: নিজস্ব উৎস থেকে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় বৈদেশিক ঋণ পরিহার।
কোয়ালিটি এডুকেশন: শিক্ষার পাসের হারের চেয়ে গুণগত মান বৃদ্ধিতে বরাদ্দ বাড়ানো।
তারুণ্য ও নারী: যুবকদের কর্মসংস্থান এবং নারীর ক্ষমতায়নকে জাতীয় উন্নয়নের মূল ধারায় রাখা।
কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন: কৃষককে সরাসরি সহায়তা ও গ্রাম কেন্দ্রিক উন্নয়ন কাঠামো।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি এবং ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় বিদেশি বিনিয়োগের খরা এবং রপ্তানি আয়ের চাপ মোকাবিলা করতে সংশোধিত এডিপিতে ৩০ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করে ২ লাখ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
বিগত বছরে ব্যয় সংকোচন নীতির মাধ্যমে সরকারের ৫ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। বর্তমান আর্থিক সংকট ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আগামী এক বছরও এই 'মিতব্যয়িতা' নীতি বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
এক নজরে বর্তমান ও আসন্ন বাজেট:
চলতি বাজেট (২০২৫-২৬): ৭.৮৮ লাখ কোটি টাকা (সংশোধিত)।
প্রস্তাবিত এডিপি: ২.৫০ লাখ কোটি টাকা।
প্রধান চ্যালেঞ্জ: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এনবিআর এবং অর্থ বিভাগ বিভিন্ন অংশীজনদের সাথে বৈঠকে বসবে, যেখানে সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর প্রতিফলন ঘটানো হবে। শেষ পর্যন্ত বাজেটের চূড়ান্ত আকার ও নীতি কী হবে, তা নির্ভর করছে ফেব্রুয়ারি পরবর্তী নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।